এলপিজির সাথে মিশবে কৃত্রিম জ্বালানি! নতুন রূপরেখা তৈরির পথে সরকার

এলপিজি বা রান্নার গ্যাসের ক্রমবর্ধমান দাম ও আমদানি নির্ভরতা কমাতে এক অভিনব কৌশলের পথে হাঁটছে কেন্দ্রীয় সরকার। এলপিজির সঙ্গে কৃত্রিম জ্বালানি ‘ডাইমিথাইল ইথার’ (DME) মিশ্রণের জন্য একটি নতুন রূপরেখা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে ‘ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস’ (BIS) এই মিশ্রণের জন্য প্রয়োজনীয় মানদণ্ড নির্ধারণ করে দিয়েছে।

কেন এই নতুন উদ্যোগ?
সাধারণত অপরিশোধিত তেল আমদানির ওপর ভিত্তি করেই এলপিজি, পেট্রোল ও ডিজেলের সরবরাহ বজায় থাকে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলে এই জ্বালানিগুলোর সরবরাহ ও দাম সরাসরি প্রভাবিত হয়। ডাইমিথাইল ইথার বা ডিএমই হলো এক প্রকার কৃত্রিম জ্বালানি, যা এই সংকট কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করতে পারে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এলপিজির সঙ্গে ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ডিএমই মেশানো হতে পারে। এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে রান্নার গ্যাসের সরবরাহ স্থিতিশীল হওয়ার পাশাপাশি দামও নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রযুক্তিগত গবেষণা ও নিরাপত্তার প্রশ্ন
সরকারি পরিকল্পনার কথা শোনা গেলেও, জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা এই নীতি নিয়ে বেশ কিছু সতর্কবার্তা দিয়েছেন। নরেন্দ্র তানেজার মতো প্রখ্যাত জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিএমই প্রযুক্তি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তাঁদের মতে, কেবল বিআইএস-এর মানদণ্ড জারি করাই যথেষ্ট নয়, এর প্রয়োগের আগে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সমাধান প্রয়োজন:

নিরাপত্তা ঝুঁকি: এলপিজি এবং ডিএমই-র রাসায়নিক গুণাগুণ আলাদা। তাই গৃহস্থালিতে ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই মিশ্রণ কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে ব্যাপক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

অর্থনৈতিক দিক: এই মিশ্রণ প্রক্রিয়ার উৎপাদন খরচ এবং দীর্ঘমেয়াদে তা কতটা সাশ্রয়ী হবে, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

পরিকাঠামো: বর্তমান এলপিজি সিলিন্ডার ও পাইপলাইন ব্যবস্থায় এই মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহার করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

ভবিষ্যতের পথচলা
সরকার ডাইমিথাইল ইথারকে একটি কার্যকর বিকল্প হিসেবে দেখছে, যা ভারতের জ্বালানি আমদানির চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তাড়াহুড়ো না করে ধাপে ধাপে প্রযুক্তিগত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরেই এই মিশ্রণ সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য বাজারে আনা উচিত। নিরাপদ ও কার্যকর প্রমাণিত হওয়ার পরেই এই নীতি বাস্তবায়নের ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট মহল।