ভারতীয় বাজারে কি ফুরিয়ে আসছে চীনা স্মার্টফোনের দাপট? কর্মী ছাঁটাই ও মন্দায় কোণঠাসা ব্র্যান্ডগুলো

একসময় ভারতীয় স্মার্টফোন বাজারের অবিসংবাদিত রাজা ছিল চীনা কোম্পানিগুলো। শাওমি, ওয়ানপ্লাস, রিয়েলমি বা অপো-র মতো ব্র্যান্ডগুলোর বিক্রির রেকর্ড ছিল দেখার মতো। কিন্তু বর্তমানে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। স্মার্টফোন বাজারে বিক্রির ধস এবং ক্রমবর্ধমান খরচের চাপে রীতিমতো কোণঠাসা এই কোম্পানিগুলো। এখন প্রশ্ন উঠছে, ভারতীয় গ্রাহকদের কাছে কি ক্রমশ আকর্ষণ হারাচ্ছে চীনা স্মার্টফোন?

বিক্রিতে মন্দা ও কর্মী ছাঁটাইয়ের খাঁড়া
গত এক বছরে স্মার্টফোনের এন্ট্রি-লেভেল ও কম মুনাফার সেগমেন্টে বিক্রি ৮ থেকে ১০ শতাংশ কমেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে কোম্পানিগুলোর কর্মী সংস্থানে। র‍্যান্ডস্ট্যাড ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, গত দুই ত্রৈমাসিকে অনেক ব্র্যান্ড তাদের কর্পোরেট ও বাণিজ্যিক কর্মী প্রায় ১২ থেকে ১৫ শতাংশ ছাঁটাই করেছে। অফলাইন মার্কেটিং এবং ফিল্ড অ্যাক্টিভেশন টিমের কর্মীরাই মূলত এই মন্দার শিকার হয়েছেন।

অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে কৌশল পরিবর্তন
শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, সংস্থাগুলো এখন ‘কম লোকবলে বেশি কাজ’ করার মডেলে ঝুঁকছে। ওয়ানপ্লাস তাদের অফলাইন সম্প্রসারণ দল ভেঙে দিয়েছে, অন্যদিকে রিয়েলমি তাদের কার্যক্রম ডিস্ট্রিবিউটরদের হাতে ছেড়ে দিয়ে অনেক এরিয়া ম্যানেজারকে ছাঁটাই করেছে। শাওমি বা ট্রান্সশনের মতো কোম্পানিগুলোও ফিল্ড ফোর্সের সংখ্যা কমিয়ে অনেকটা সুসংহত কাঠামোয় আসার চেষ্টা করছে। শুধু তাই নয়, নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রেও বেতন বৃদ্ধির হার ৪০-৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫-২০ শতাংশে নামিয়ে এনেছে এই ব্র্যান্ডগুলো।

কেন এই পরিবর্তন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে দুটি প্রধান কারণ রয়েছে:
১. প্রিমিয়াম ফোনের দিকে ঝোঁক: ২০,০০০ টাকার বেশি দামি স্মার্টফোনের চাহিদা ভারতীয় বাজারে বেড়েই চলেছে। সস্তায় কম মুনাফার ফোনের ওপর নির্ভরশীল চীনা ব্র্যান্ডগুলো এই পরিবর্তনের সাথে দ্রুত খাপ খাওয়াতে হিমশিম খাচ্ছে।
২. অনলাইন কেনাকাটার প্রভাব: গ্রাহকরা এখন অফলাইনের চেয়ে অনলাইনে কেনাকাটার দিকে বেশি ঝুঁকছেন, যার ফলে বিশাল স্থানীয় বিপণন নেটওয়ার্ক বজায় রাখা কোম্পানিগুলোর জন্য ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।

ভবিষ্যৎ কোন দিকে?
কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের প্রজেকশন অনুযায়ী, ভারতীয় বাজারে চীনা ব্র্যান্ডগুলোর ভ্যালু শেয়ার ২০২৫ সালের মধ্যে ৪৮ শতাংশে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ২০২৩ সালে ছিল ৫৪ শতাংশ। এটি কোনোভাবেই ইলেকট্রনিক্স শিল্পের পতন নয়, বরং বাজারের চাহিদার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে কোম্পানিগুলোর ‘সারভাইভাল স্ট্র্যাটেজি’ বা টিকে থাকার লড়াই।

সব মিলিয়ে, সাশ্রয়ী ও সুনির্দিষ্ট বিপণন কৌশলের দিকে ঝুঁকছে কোম্পানিগুলো। ভারতের বাজারে নিজেদের হারানো জৌলুস ফেরাতে চীনা ব্র্যান্ডগুলোকে এখন কেবল ফোনের গুণমান নয়, বরং ব্যবসায়িক মডেলের আমূল পরিবর্তন ঘটাতে হবে।