অবসর নিয়েছেন? পেনশনভোগীদের জন্য ITR দাখিলের নিয়ম ও বড় ছাড়ের খবর জেনে নিন

অনেকেই মনে করেন, অবসরের পর বেতন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আয়কর রিটার্ন (ITR) দাখিলের প্রয়োজন নেই। কিন্তু আয়কর বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, পেনশনভোগীদের আয় যদি করযোগ্য সীমার উপরে থাকে, তবে প্রতি বছর আইটিআর দাখিল করা বাধ্যতামূলক। পেনশনকে আয়কর আইনে ‘বেতন’ হিসেবেই গণ্য করা হয়। ২০২৬-২৭ মূল্যায়ন বর্ষের জন্য আইটিআর দাখিলের কাজ শুরু হয়েছে, যার শেষ তারিখ ৩১ জুলাই, ২০২৬।

কেন রিটার্ন দাখিল করবেন পেনশনভোগীরা?
আইটিআর দাখিল করলে শুধুমাত্র জরিমানা থেকেই মুক্তি পাওয়া যায় না, বরং এর রয়েছে একাধিক সুবিধা:

ট্যাক্স রিফান্ড: কাটা যাওয়া অতিরিক্ত টিডিএস (TDS) ফেরতের জন্য এটি অপরিহার্য।

ভবিষ্যতের নথিপত্র: ব্যাংক ঋণ নেওয়া কিংবা ভিসার আবেদনের ক্ষেত্রে আইটিআর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণপত্র।

সঠিক হিসাব: পেনশনের পাশাপাশি ব্যাংকের সুদ ও অন্যান্য বিনিয়োগের আয়ের সঠিক হিসাব রাখা সহজ হয়।

প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বিশেষ কর ছাড়ের সুবিধা:
সরকার প্রবীণ নাগরিকদের জন্য করের বোঝা কমাতে একাধিক ধারায় ছাড়ের সুযোগ রেখেছে:

স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন: পেনশনভোগীরা স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশনের সুবিধা নিয়ে করযোগ্য আয় কমাতে পারেন।

সুদের ওপর ছাড় (ধারা 80TTB): ব্যাংক, পোস্ট অফিস বা এফডি (FD) থেকে অর্জিত সুদের ওপর ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত কর ছাড় পাওয়া যায়।

স্বাস্থ্য বীমা ও চিকিৎসা (ধারা 80D ও 80DDB): স্বাস্থ্য বীমার প্রিমিয়াম বাবদ ৫০,০০০ টাকা এবং গুরুতর অসুস্থতার চিকিৎসার ক্ষেত্রে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত কর ছাড় দাবি করা সম্ভব।

বিনিয়োগে ছাড় (ধারা 80C): এলআইসি প্রিমিয়াম, পিএফ, এনএসসি-তে বিনিয়োগ এবং গৃহঋণের মূল টাকা পরিশোধে ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ছাড় পাওয়া যায়।

গৃহঋণের সুদ (ধারা 24B): গৃহঋণের সুদের ওপর ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

অগ্রিম কর থেকে স্বস্তি:
পেনশনভোগীদের জন্য সুখবর হলো, যাদের ব্যবসা বা পেশা থেকে কোনো আয় নেই, তাদের ‘অগ্রিম কর’ (Advance Tax) জমা দিতে হবে না। ফলে ধারা ২৩৪বি এবং ২৩৪সি-এর অধীনে অতিরিক্ত সুদের ঝামেলা তাদের পোহাতে হয় না।

পুরোনো না নতুন কর ব্যবস্থা?
পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে নতুন এবং পুরোনো—উভয় কর ব্যবস্থারই সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে। যাদের বিনিয়োগ ও ছাড়ের পরিমাণ বেশি, তাদের জন্য পুরোনো কর ব্যবস্থা সাধারণত লাভজনক। অন্যদিকে, যাদের বিনিয়োগ কম, তাদের জন্য নতুন কর ব্যবস্থা সহজতর হতে পারে। সঠিক পরিকল্পনা করে আয়কর দাখিল করলে অবসরের পরের জীবনে আর্থিক স্বস্তি বজায় রাখা সম্ভব।

উল্লেখ্য, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থ হলে বিলম্ব ফি দিয়ে ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত রিটার্ন দাখিল করা যাবে।