‘সোনা পাপ্পু’র সূত্র ধরে তল্লাশিতে বিপুল সোনা উদ্ধার! দুবাই যোগে কাঁপছে শহর

‘সোনা পাপ্পু’ মামলার তদন্তে নেমে ইডি (ED)-র জালে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, শহরের এক ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয়েছে আড়াই কেজি সোনা, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা।
দুবাই যোগ ও ডিজিটাল প্রমাণ:
মার্কুইস স্ট্রিট ও মহম্মদ আলির ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সোনা ছাড়াও প্রচুর ডিজিটাল এভিডেন্স উদ্ধার করেছেন আধিকারিকরা। তদন্তকারীদের হাতে এসেছে দুবাইয়ের চারটি সম্পত্তির নথিও। এর আগে মোট ৯টি জায়গায় অভিযান চালিয়ে ১৫ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার করেছে ইডি। তদন্তে উঠে এসেছে, এই ব্যবসায়ীর সঙ্গে শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে।
কীভাবে চলত কালো টাকা সাদা করার কারবার?
ইডি হেফাজতে বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে ‘সোনা পাপ্পু’-কে জিজ্ঞাসাবাদের পরই একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসছে। তদন্তকারীদের দাবি, একাধিক ভুয়া সংস্থার মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করার দীর্ঘ কৌশল চালাতেন সোনা পাপ্পু। সেই টাকা কোন কোন প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে পৌঁছেছিল এবং কোথায় বিনিয়োগ করা হয়েছিল, এখন সেই ‘মানি ট্রেইল’ খুঁজতেই মরিয়া কেন্দ্রীয় সংস্থা।
পার্কস্ট্রিট থেকে কান্দি: ইডি-র তোড়জোড়:
শুক্রবার সকাল থেকেই সক্রিয় ছিল ইডি। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে পার্কস্ট্রিটের ‘দ্য কর্পোরেট’ ক্যাফেটেরিয়া কাম হোটেলে হানা দেন তদন্তকারীরা। জমি জালিয়াতির একটি মামলার সূত্র ধরেই এই তল্লাশি চালানো হয়। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের কান্দিতে শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বিশাল পাঁচিল ঘেরা বাড়িতে টানা ১৪ ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়ে শুক্রবার রাত ১১টা নাগাদ বেরিয়ে আসেন আধিকারিকরা। বাড়িটি সিল করে দেওয়া হয়েছে এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে কয়লা পাচার এবং এবার জমি জালিয়াতি ও বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ—একযোগে রাজ্যের একাধিক প্রান্তে ইডি-র এই আগ্রাসী তল্লাশি অভিযান রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে অস্বস্তি বাড়াল। এই তদন্তের গতিপ্রকৃতি কোন প্রভাবশালী পর্যন্ত পৌঁছায়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে ওয়াকিবহাল মহল।