পুরীর ভিড় এড়াতে চান? এই গরমের ছুটিতে ঘুরে আসুন কলকাতার কাছের ৩টি অজানা সৈকতে

গরমের ছুটি মানেই কি কেবল পাহাড়? কিন্তু পাহাড়ে অত্যধিক ভিড় আর শহরের যান্ত্রিকতা থেকে মুক্তি পেতে সমুদ্রের হাতছানি বরাবরই মনোরম। উত্তরবঙ্গের ভিড় এড়িয়ে যারা একটু নিরিবিলি বালুকাবেলায় প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য রইল কলকাতার কাছে অবস্থিত তিনটি শান্ত সমুদ্র সৈকতের হদিশ।

১. কানাইচট্ট সৈকত (পশ্চিমবঙ্গ):
কাঁথি বাস স্ট্যান্ড থেকে অল্প দূরেই অবস্থিত এই সৈকত। পর্যটন মানচিত্রে এখনো সেভাবে জনপ্রিয় না হওয়ায় জায়গাটি বেশ শান্ত ও প্রাকৃতিক। যারা লোকচক্ষুর অন্তরালে সবুজের ছোঁয়ায় সমুদ্র উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য কানাইচট্ট আদর্শ। এখানে ভিড়ের বালাই নেই, আছে কেবল প্রকৃতির শান্ত পরিবেশ।

২. নুয়ানাই (ওড়িশা):
পুরীর কিছুটা কাছেই অবস্থিত এই জায়গাটি। বালুখণ্ড-নুয়ানাই এলাকাটি ম্যানগ্রোভ অরণ্য এবং সমুদ্রের এক অদ্ভুত মিলনস্থল। এখানে সৈকতের বালুচরে বসে আপনি সমুদ্রের গর্জন ছাড়া আর কিছুই শুনতে পাবেন না। থাকার জন্য এখানে সরকারি উদ্যোগে পরিবেশবান্ধব অতিথি আবাস রয়েছে, যা আপনার ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে আরও আনন্দদায়ক করে তুলবে।

৩. বাগদা সৈকত (ওড়িশা):
ওড়িশার বালেশ্বরের কাছে অবস্থিত এই সৈকতটি এখনো অনেকের অজানা। সৈকতের সমান্তরালে ঝাউবনের সারি এখানে এক অনন্য সৌন্দর্য তৈরি করেছে। পাখির কিচিরমিচির আর সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দই এখানকার একমাত্র সঙ্গী। সকাল-বিকেল স্থানীয় জেলেদের জাল ফেলার দৃশ্য আপনার ক্লান্তি ভুলিয়ে দিতে বাধ্য।

ভ্রমণের টিপস:
যেহেতু এই তিনটি জায়গা এখনো মূল ধারার পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে সেভাবে গড়ে ওঠেনি, তাই এখানে যাওয়ার আগে যাতায়াত ও থাকার ব্যবস্থা সম্পর্কে ভালোভাবে খোঁজ নিয়ে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। প্রকৃতির এই আশীর্বাদপুষ্ট জায়গাগুলোকে পরিষ্কার রাখতে পর্যটকদের বিশেষ দায়িত্ববান হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।