নিয়োগ পরীক্ষায় বড় বদল! মৌখিক পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে লিখিতকে গুরুত্ব, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতিমুক্ত স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এবার আমূল পরিবর্তনের পথে রাজ্য সরকার। শনিবার শিয়ালদহের ডঃ বিসি রায় অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘রোজগার মেলা’য় অংশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিয়োগ নীতিতে একগুচ্ছ নতুন সংস্কারের ঘোষণা করলেন।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যে বড় পরিবর্তনগুলো আসছে:

মৌখিক পরীক্ষার গুরুত্ব হ্রাস: মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এখন থেকে নিয়োগ পরীক্ষায় মৌখিক পরীক্ষার (ভাইবা) নম্বর কমিয়ে আনা হবে। লিখিত পরীক্ষা এবং প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল্যায়নের ওপরই মূল গুরুত্ব দেওয়া হবে। মৌখিক পরীক্ষায় কেবল ন্যূনতম নম্বর রাখার পক্ষপাতী রাজ্য সরকার।

ওএমআর (OMR) কার্বন কপি: নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এখন থেকে ওএমআর শিটের কার্বন কপি পরীক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এতদিন কার্বন কপি খাতার সঙ্গেই জমা নেওয়া হতো, যা অত্যন্ত ভুল প্রথা। এই পদ্ধতি বন্ধ করে পরীক্ষার্থীদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।

ডিজিটাল স্বচ্ছতা ও ওয়েবসাইট: নিয়োগ পরীক্ষার স্কোর কার্ড ও ফলাফল সংশ্লিষ্ট রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ দিয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা রিক্রুটমেন্ট আর হবে না।”

নতুন আইন: বিধানসভার পরবর্তী বাজেট অধিবেশনে নিয়োগ প্রক্রিয়ার জন্য একটি নতুন ও শক্তিশালী আইন আনা হবে বলে এদিন ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

পূর্বতন সরকারের সমালোচনায় মুখ্যমন্ত্রী:
বিগত সরকারের আমলে নিয়োগ দুর্নীতিতে রাজ্যের ভাবমূর্তি যে ভয়াবহভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে, তা এদিন তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “শিক্ষক নিয়োগ ও পুর-নিয়োগ দুর্নীতিতে ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ও সংস্কৃতির রাজধানী হিসেবে পরিচিতি অনেকটা ম্লান করেছে।” মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিগত দিনে পরীক্ষাকেন্দ্রগুলি এতই কলুষিত ছিল যে, পূর্ব রেল বা দক্ষিণ-পূর্ব রেলের মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি পশ্চিমবঙ্গে পরীক্ষা নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল, যার ফলে রাজ্যের যুবসমাজকে ওড়িশা বা অসমের মতো ভিনরাজ্যে গিয়ে পরীক্ষা দিতে হতো।

মুখ্যমন্ত্রীর এই সংস্কারমুখী ঘোষণা রাজ্য সরকারি চাকরির অপেক্ষায় থাকা প্রার্থীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেধা ও স্বচ্ছতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়াই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য বলে তিনি এদিন পুনর্ব্যক্ত করেন।