তৃণমূল নেতার হয়ে আদালতে বিকাশরঞ্জন! সিপিএম নেতাকে ‘ধান্দাবাজ’ বলে তোপ সোশ্যাল মিডিয়ায়

তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সী ও দেবরাজ চক্রবর্তীর হয়ে হাইকোর্টে সওয়াল করার পর থেকেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন প্রবীণ আইনজীবী তথা সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। দুর্নীতি ইস্যুতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে যিনি বছরের পর বছর ধরে সরব থেকেছেন, সেই বিকাশরঞ্জন কেন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাদের আইনি সুরক্ষা দিচ্ছেন—তা নিয়ে দলের অন্দরে ও সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

কেন এই বিতর্ক?
অদিতি মুন্সী ও দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ওঠা আয় বহির্ভূত সম্পত্তির মামলায় আইনজীবী হিসেবে তাঁদের হয়ে সওয়াল করেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। আদালত এই দম্পতিকে সাময়িক স্বস্তি দিয়ে ১৯ জুন পর্যন্ত পুলিশি গ্রেপ্তারি থেকে সুরক্ষা দিয়েছে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই সিপিএম কর্মীদের একটি বড় অংশ ক্ষুব্ধ। তাঁদের দাবি, যিনি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়োগ দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রধান মুখ, তিনিই কীভাবে ‘দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত’ তৃণমূল দম্পতির ঢাল হয়ে দাঁড়ান?

সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড়:
সোশ্যাল মিডিয়ায় সিপিএম সমর্থক তিতাস বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে নিশানা করে সরব হয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “উকিল হিসেবে সিন্ডিকেটের তোলাবাজের পক্ষে কোর্টে দাঁড়াবেন, আর যাদবপুরের রাস্তায় দুর্নীতি নিয়ে ক্যাম্পেইন করবেন—এই দুই কি একসঙ্গে যায়?” তিতাস তাঁর পোস্টে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, অতীতে মোমিনপুর ও একবালপুরের অশান্তির ঘটনায় যখন সাংবাদিক মানব গুহ আইনি সহায়তার জন্য বিকাশরঞ্জনের কাছে গিয়েছিলেন, তখন তিনি তা নিতে অস্বীকার করেছিলেন। এই প্রসঙ্গ তুলে তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ ও পেশাগত ভূমিকার ফারাক নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেনরা।

আইনজীবী বনাম রাজনীতিক:
যদিও বিকাশরঞ্জনের সমর্থকদের একাংশের বক্তব্য, একজন আইনজীবী হিসেবে তিনি যে কারোর হয়েই সওয়াল করতে পারেন। এটি তাঁর পেশাগত দায়বদ্ধতা। তবে সমালোচকদের পাল্টা যুক্তি, বিকাশরঞ্জন শুধুমাত্র একজন আইনজীবী নন, তিনি সিপিএম-এর একজন শীর্ষস্তরের রাজনৈতিক নেতা। তাই তাঁর পেশাগত সিদ্ধান্তের সঙ্গে রাজনৈতিক অবস্থানের সংঘর্ষ হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়, যা সাধারণ কর্মীরা সহজে মেনে নিতে পারছেন না।

তৃণমূল ও রাজনীতির সমীকরণ:
একদিকে নিয়োগ দুর্নীতিতে যখন তৃণমূলের একের পর এক হেভিওয়েট নেতা গ্রেফতার হচ্ছেন, তখন তৃণমূলের প্রভাবশালী দম্পতির হয়ে বাম নেতার সওয়াল রাজ্যের রাজনৈতিক আবহকে আরও জটিল করে তুলেছে। আদালতের এই নির্দেশের পর একদিকে রাজনৈতিক মহলে যেমন শোরগোল পড়েছে, তেমনই সিপিএম-এর অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বিকাশ ভট্টাচার্যের এই ভূমিকা নিয়ে অস্বস্তি বাড়তে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।