১০ লক্ষ টাকা তোলা চেয়ে হুমকি! আত্মঘাতী তৃণমূল কাউন্সিলর সঞ্জয় দাস, দাবি স্থানীয় নেতার

দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর তথা স্বাস্থ্য বিভাগের চেয়ারম্যান-ইন-কাউন্সিল (CIC) সঞ্জয় দাসের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শনিবার সকালে নিজের বাসভবন থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে পুলিশের সন্দেহ।

বিস্ফোরক অভিযোগ স্থানীয় নেতার:
এই মৃত্যুর নেপথ্যে ‘তোলাবাজি’ ও ‘হুমকি’র অভিযোগ তুলেছেন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল সভাপতি কিরণ ভট্টাচার্য। তিনি দাবি করেন, “সঞ্জয় দাসকে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি হুমকি দিয়েছিল। তাঁরা ওর কাছে ১০ লক্ষ টাকা দাবি করেছিল। সঞ্জয় তাঁদের ১০ হাজার টাকা নিতে বললেও তাঁরা শোনেনি।”

কিরণ ভট্টাচার্যের দাবি অনুযায়ী, এই হুমকিদাতারা মূলত তৃণমূলের প্রাক্তন কর্মী, যারা সরকার পরিবর্তনের পর এখন বিজেপির নাম ভাঙিয়ে তোলাবাজি করছে। তিনি আরও বলেন, “ওই হুমকির পর থেকেই সঞ্জয় প্রচণ্ড মানসিক চাপে (স্ট্রেস) ছিল। সম্ভবত সেই চাপ সহ্য করতে না পেরেই এই চরম পথ বেছে নিয়েছে।” তবে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, বিজেপি দলের ওপর এই দায় চাপাতে নারাজ তিনি। শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে সুসম্পর্কের দোহাই দিয়ে তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।

রাজনৈতিক পটভূমি:
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক তৃণমূল কাউন্সিলরের গ্রেফতারি রাজ্য রাজনীতিকে উত্তপ্ত করে রেখেছে। বিধাননগর পুরনিগমের সমরেশ চক্রবর্তী, সুশোভন মণ্ডল, রঞ্জন পোদ্দার থেকে শুরু করে সম্প্রতি দক্ষিণ দমদম পুরসভারই ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পার্থ ভার্মার গ্রেফতারি—সব মিলিয়ে দলের অন্দরে এক গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তদন্ত ও প্রতিক্রিয়া:
মৃত কাউন্সিলর সঞ্জয় দাস এলাকায় রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সি ও দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর অদিতি মুন্সি সহ তৃণমূলের শীর্ষ স্থানীয় নেতৃত্ব ঘটনাস্থলে যান। একের পর এক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে তদন্তের প্রক্রিয়া এবং তার মাঝেই এমন অস্বাভাবিক মৃত্যুতে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। পুলিশ ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।