দেবরাজ-অদিতি দম্পতির পক্ষে বিকাশরঞ্জন! সিপিএম নেতাকে বিঁধে বিস্ফোরক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সি এবং বিধাননগর পুরসভার মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তীর হয়ে হাইকোর্টে সওয়াল করলেন প্রবীণ আইনজীবী তথা সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি নিশানা করলেন বিকাশরঞ্জনকে।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আক্রমণ:
নিজের এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে নাম না করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, যিনি নিজেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠস্বর হিসেবে দাবি করেন, তাঁকেই এখন দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ও তাঁর স্বামীর পক্ষে আদালতে সওয়াল করতে দেখা যাচ্ছে। কল্যাণ প্রশ্ন তোলেন, “ওই প্রবীণ আইনজীবীর দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান কি তবে বাছাই করা? বিজেপি ও সিপিএমের মধ্যে কি কোনো সমঝোতা তৈরি হয়েছে? নাকি রাজনৈতিক অবস্থান ও আইনি লড়াই এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন সমীকরণে চলছে?” রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই মন্তব্যের মাধ্যমে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ঘুরিয়ে নিজের দলেরই প্রাক্তন বিধায়ক ও দেবরাজ চক্রবর্তীর মতো নেতাদের প্রতিও তীর্যক ইঙ্গিত করেছেন।
হাইকোর্টে মামলা ও প্রেক্ষাপট:
বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের বেঞ্চে দেবরাজ চক্রবর্তী ও অদিতি মুন্সির হয়ে সওয়াল করেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। আদালত আপাতত ১৯ জুন পর্যন্ত এই দম্পতির ওপর কোনো কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগ, গত ৫ বছরে তাঁদের আয় ১ কোটি টাকা হলেও, তাঁরা ৬০-৭০ লক্ষ টাকার গাড়ি কিনেছেন এবং তাঁদের অবৈধ সম্পত্তির পরিমাণ ১০০ কোটি টাকার কাছাকাছি।
দেবরাজ-ঘনিষ্ঠ কাউন্সিলর গ্রেফতার:
এই বিতর্কের মধ্যেই পুলিশের জালে বিধাননগর পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সম্রাট বড়ুয়া। তিনি দেবরাজ চক্রবর্তীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। তোলাবাজি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বাগুইহাটি থানা তাঁকে গ্রেফতার করেছে।
দলের দুই প্রভাবশালী নেতার আইনি লড়াই এবং তাদের হয়ে সিপিএম নেতার সওয়াল—সব মিলিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে এখন এক অদ্ভুত সমীকরণ তৈরি হয়েছে, যা তৃণমূল ও বিরোধী দুই শিবিরের অন্দরেই নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।