ইভানকা ট্রাম্পকে হত্যার ছক! গ্রেফতার ইরান-সমর্থিত আইএসআইএস-সংশ্লিষ্ট জঙ্গি

আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী ছকের নিশানায় এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কন্যা ইভানকা ট্রাম্প। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর সাথে যুক্ত এক ইরাকি নাগরিককে গ্রেফতার করেছে মার্কিন নিরাপত্তা বাহিনী। ইভানকাকে হত্যা করে ট্রাম্প পরিবারকে আঘাত করার পরিকল্পনা ছিল ওই ব্যক্তির। এই ঘটনায় নতুন করে বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
কে এই ঘাতক?
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ বাকের সাদ দাউদ আল-সাদি। ৩২ বছর বয়সী এই ইরাকি নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি আইআরজিসি দ্বারা প্রশিক্ষিত এবং ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্য। ২০২০ সালে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানি কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর থেকেই তার অনুগতরা প্রতিশোধ নেওয়ার ছক কষছিল। আল-সাদি সোলাইমানিকে নিজের আদর্শ মানতেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছিলেন, “ট্রাম্প যেভাবে আমাদের ঘর পুড়িয়েছে, আমরাও ট্রাম্পের ঘর পুড়িয়ে দেব।”
কীভাবে পরিকল্পনা সাজিয়েছিল?
তদন্তকারীদের হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী, আল-সাদির কাছ থেকে ইভানকা ট্রাম্পের ফ্লোরিডায় অবস্থিত বাসভবনের বিস্তারিত নকশা বা ব্লুপ্রিন্ট উদ্ধার করা হয়েছে। ইভানকা ও তাঁর স্বামী জারেদ কুশনারের ২ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বাড়ির লোকেশনসহ ম্যাপ সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে তিনি হুমকি দিয়েছিলেন, “আমেরিকার প্রাসাদ বা সিক্রেট সার্ভিস—কাউকেই তোমরা রক্ষা করতে পারবে না।”
আইনি পদক্ষেপ ও নিরাপত্তা:
ম্যানহাটানের ফেডারেল আদালতে আল-সাদির বিরুদ্ধে মোট ৬টি সন্ত্রাসবাদী অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বোমা হামলা, সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া এবং ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর হামলার পরিকল্পনা করারও অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনার পর ফ্লোরিডায় ইভানকা ট্রাম্পের বাসভবন ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা বলয় কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য অ্যানা পলিনা লুনা একে “ভয়ংকর ও অগ্রহণযোগ্য” বলে অভিহিত করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতামত:
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি নিছক একজন ব্যক্তির পাগলামি নয়। সোলাইমানি হত্যার পর থেকে ইরান ও তাদের প্রক্সি যোদ্ধারা ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের ওপর ছায়া যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। আল-সাদি কাতায়েব হিজবুল্লাহসহ একাধিক ইরান-সমর্থিত গ্রুপের সাথে যুক্ত থাকায়, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন এই পুরো ষড়যন্ত্রের পেছনে আরও বড় কোনো আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে।
ট্রাম্প পরিবার এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না করলেও, হোয়াইট হাউস ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।