“দিদির অন্ধ স্নেহেই দল শেষ!” ভোটের ভরাডুবির পর বিস্ফোরক পার্থ চট্টোপাধ্যায়

তৃণমূলের বিপর্যয়ের আবহে এবার দলের অন্দরেই উঠল চরম বিদ্রোহের সুর। এককালের ‘মমতার ছায়াসঙ্গী’ পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গলায় শোনা গেল নেত্রীর প্রতি তীব্র সমালোচনা। ভোটের ভরাডুবির দায় সরাসরি দলের হাইকম্যান্ডের ওপর চাপিয়ে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তিনি।
নেত্রীর ‘অন্ধ স্নেহ’ই কি পতনের কারণ?
অভিষেকের নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নিশানায় ছিলেন তিনিই। তিনি বলেন, “মুকুল রায় থেকে শুভেন্দু অধিকারী—দলের বেশিরভাগ দক্ষ মুখই আজ অন্য দলে। তাঁদের আটকালো কে? একজনের জন্য সবাই চলে যাবে? এখানে দিদির বোধহয় ‘অন্ধ স্নেহ’ ও ‘অন্ধ ভালোবাসা’ কাজ করেছে।” তাঁর কথায়, দিদির একচ্ছত্র অনুগত থাকার প্রবণতায় দলের অন্যান্য নেতারা কোনঠাসা হয়ে পড়ছেন, যা দলের অস্তিত্বের জন্য বড় সংকট।
নতুন নেতৃত্বের দাবি:
তৃণমূলকে জাতীয় দলের তকমা দিলেও, দলের বর্তমান সাংগঠনিক দুর্বলতা নিয়ে পার্থবাবু ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি সাফ বলেন, “আমাদের তো ক্ষয় হচ্ছে। শিবসেনা বা স্টালিনের দল পরিস্থিতি বুঝে পদক্ষেপ নিতে পারে, আমরা তা পারছি না। দিদির উচিত এখনই তাঁর যোগ্য উত্তরাধিকার খোঁজা। কারণ, মমতার বিকল্প কেবল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই হতে পারেন, আর কেউ নন।”
সংগঠন নিয়ে চূড়ান্ত হতাশা:
দলের বর্তমান কৌশল ও নেতাদের কাজকর্ম নিয়েও পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গলায় ধরা পড়েছে তীব্র হতাশা। তিনি বলেন, “আমি হলে বলতাম, হারের পর সাফল্যের গান না গেয়ে ভুলগুলো সংশোধন করো। ঝাড়গ্রাম শূন্য, নদীয়া ৩, কোচবিহার প্রায় শূন্য—এগুলোই তো বাস্তব ছবি।” শওকত মোল্লা বা আরাবুল ইসলামের মতো নেতাদের প্রভাব নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
পার্থর আক্ষেপ:
কারাগারে বন্দি পার্থবাবু নিজের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও আক্ষেপ করেন। তিনি জানান, দলের মধ্যে তাঁকে ব্রাত্য করে রাখা হয়েছে। তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, “সবাইকে বলে দেওয়া হয়েছে আমার সঙ্গে দেখা না করতে। মুকুল দিয়ে যে ভাঙন শুরু হয়েছিল, তা পার্থতে এসে শেষ হয়েছে।”
তৃণমূলের অন্দরের এই ক্ষোভ যে আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি করতে পারে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।