জমি উদ্ধারে কড়া অবস্থান বিশ্বভারতীর! ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার আসতেই নড়েচড়ে বসল কর্তৃপক্ষ।

কবিগুরুর শান্তিনিকেতনকে তার পুরনো গৌরব ফিরিয়ে দিতে দীর্ঘদিনের জমি বিতর্ক মেটানোর পথে হাঁটছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার গঠনের পরই জমি পুনরুদ্ধার নিয়ে বিশেষ তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বেদখল থাকা বা অননুমোদিতভাবে ব্যবহৃত জমি পুনরুদ্ধারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখন আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের ওপর জোর দিচ্ছে।

কেন এই তৎপরতা? বিশ্বভারতীর দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ক্যাম্পাসের বিশাল এলাকা জুড়ে থাকা জমি বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে। এমনকি বহু জমি লিজের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও তা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বারবার এনিয়ে আবেদন জানালেও এতদিন খুব একটা সুরাহা মেলেনি। বর্তমানে কেন্দ্র ও রাজ্যে একই ধরণের রাজনৈতিক সমীকরণ থাকায় প্রশাসনিক সহযোগিতা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

কী ব্যবস্থা নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ? জমি উদ্ধারের এই প্রক্রিয়ায় বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকটি ধাপে কাজ করছে:

  • চিহ্নিতকরণ: লিজের মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়া ও বেদখল থাকা জমিগুলোকে নতুন করে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

  • নোটিশ জারি: অবৈধ দখলদারদের দ্রুত জমি খালি করে দেওয়ার জন্য কঠোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

  • আইনি লড়াই: প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে আইনানুগ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক বিশ্বভারতীর এই জমি উদ্ধারের সিদ্ধান্তকে ঘিরে শান্তিনিকেতন এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও ঐতিহ্য রক্ষায় জমি পুনরুদ্ধার অপরিহার্য। অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, বহু মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে এই জায়গায় রয়েছেন, তাদের উচ্ছেদের সময় মানবিক দিকটিও বিবেচনা করা উচিত।

প্রশাসনিক সূত্রের খবর, বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ এনিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে নিয়মিত বৈঠক করছে যাতে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি না ঘটিয়ে জমি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়। আগামী দিনে এই জমি উদ্ধার অভিযান কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।