রান্নায় তেলের খরচ কমবে অর্ধেক! স্বাদের সঙ্গে আপস না করে সুস্থ থাকার আসল চাবিকাঠি জানুন

বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ, আর সেই সব উদযাপনের কেন্দ্রবিন্দুতেই থাকে রকমারি খাবারদাবার। সর্ষের তেল ছাড়া কি আর সর্ষে ইলিশ কিংবা কষা মাংস জমে? কিন্তু মুশকিল হলো, সুস্বাদু রান্নার চক্করে প্রতিদিন অজান্তেই অনেকটা তেল পেটে চলে যায়। যার সরাসরি প্রভাব পড়ে শরীরে। কোলেস্টেরল, ওজনের বাড়বৃদ্ধি কিংবা হার্টের সমস্যা—আজকাল ঘরে ঘরে। আর এই ভয়ে অনেকেই সাধের পদগুলো খাওয়া প্রায় ছেড়েই দিয়েছেন।
তবে ডায়েটিশিয়ানরা বলছেন, সুস্থ থাকার জন্য পছন্দের খাবার পুরোপুরি বন্ধ করার কোনো প্রয়োজন নেই। বরং রান্নার কৌশলে সামান্য কিছু বদল আনলেই কেল্লাফতে! বাঙালির চেনা হেঁশেলেই কম তেল ব্যবহার করে অত্যন্ত সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যকর রান্না করা সম্ভব।
স্বাদ ও পুষ্টি বজায় রেখে কীভাবে তেলের ব্যবহার কমাবেন, রইল কিছু সহজ ও কার্যকরী কৌশল:
-
নন-স্টিক বাসনের ব্যবহার: রান্নায় তেলের পরিমাণ এক ধাক্কায় অনেকটা কমিয়ে দেওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো ভালো মানের নন-স্টিক কড়াই বা প্যান ব্যবহার করা। এই ধরনের বাসনে সামান্য তেলের প্রলেপ দিয়েই যেকোনো ভাজাভুজি বা কষানোর কাজ অনায়াসে সেরে ফেলা যায়।
-
মশলা কষানোর নতুন টেকনিক: মশলা কষানোর সময় তেল কম হলে অনেকেই চিন্তায় পড়েন। এর সহজ সমাধান হলো সামান্য জলের ব্যবহার। মশলা কড়াইয়ে লেগে যেতে শুরু করলে তেল না ঢেলে, অল্প অল্প ইষদুষ্ণ জল বা টক দই ফেটিয়ে দিন। এতে মশলা পুড়বেও না, আবার তেলের অভাবও বোঝা যাবে না।
-
ভাপানো বা বেকড খাবারের ম্যাজিক: বাঙালি রান্নায় ‘ভাপা’র চেয়ে পুষ্টিকর আর কিছু হতে পারে না। মাছ, পটল বা ডিমের মতো পদগুলো কড়া করে না ভেজে যদি সর্ষে-পোস্ত বা দই দিয়ে ভাপিয়ে নেওয়া যায়, তবে তেলের খরচ কমে প্রায় শূন্যে নেমে আসে। অথচ স্বাদে কোনো খামতি থাকে না।
-
তেল স্প্রে করার অভ্যাস: কড়াইয়ে সরাসরি বোতল থেকে তেল না ঢেলে স্প্রে বোতল বা ব্রাশ ব্যবহার করুন। এতে রান্নায় তেলের পরিমাণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে।
খাদ্যরসিক বাঙালিকে সুস্থ রাখতে রান্নার এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে বড়সড় স্বস্তি দিতে পারে। আজ থেকেই নিজের রান্নাঘরে এই টিপসগুলো ট্রাই করে দেখতে পারেন।