চন্দ্রনাথ খুনে সিবিআই-এর প্রথম ও বড় সাফল্য! হাইওয়েতে সিনেমার কায়দায় গ্রেফতার ৩ হেভিওয়েট সুপারি কিলার

উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের তদন্তভার হাতে নিতেই রাজকীয় মেজাজে ব্যাটিং শুরু করে দিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI)। রাজ্য পুলিশের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পর, ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই এই হাইপ্রোফাইল খুনের মামলায় বড়সড় ব্রেক-থ্রু পেলেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। হাইওয়ে টোল প্লাজার সিসিটিভি ফুটেজ, একটি ডিজিটাল ইউপিআই (UPI) লেনদেনের সূত্র এবং নিখুঁত মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে ভিনরাজ্যের সীমানা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে ঘটনার সঙ্গে যুক্ত তিন দুর্ধর্ষ পেশাদার শুটারকে।
তদন্তকারী সূত্রের খবর, গত ৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকায় চন্দ্রনাথ রথকে খুব কাছ থেকে পর পর ৩টি গুলি করে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। এই ঘটনার পর থেকেই রাজ্য জুড়ে তীব্র রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক শোরগোল শুরু হয়। তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, এই খুনের নেপথ্যে কাজ করেছে ভিনরাজ্যের এক সুপারি কিলার গ্যাং এবং আনুমানিক প্রায় দেড় কোটি টাকার সুপারি দেওয়া হয়েছিল এই মেগা অপারেশনের জন্য।
পেশাদার এই খুনিরা অপরাধ করার পর অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে রাজ্য ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করেছিল। কিন্তু বাদ সাধল বালি টোল প্লাজার একটি অনলাইন পেমেন্ট। জানা গেছে, খুনে ব্যবহৃত গাড়িটি নিয়ে যখন অভিযুক্তরা বালি টোল প্লাজা পার হচ্ছিল, তখন তড়িঘড়ি নগদ টাকা না দিয়ে নিজেদের মোবাইল থেকে অনলাইনের মাধ্যমে টোল ট্যাক্স মেটায় তারা। এই একটিমাত্র ডিজিটাল সূত্রকেই হাতিয়ার করেন গোয়েন্দারা। ওই ইউপিআই লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত সিম কার্ড এবং মোবাইল নম্বরটিকে তৎক্ষণাৎ সাইবার সেলের বিশেষ নজরদারিতে (Technical Surveillance) রাখা হয়।
এরপরই শুরু হয় সিবিআই এবং রাজ্য পুলিশের এসআইটি-র যৌথ রুদ্ধশ্বাস অপারেশন। মোবাইল টাওয়ারের লাইভ লোকেশন খতিয়ে দেখে জানা যায়, অভিযুক্তরা উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের দিকে পালাচ্ছে। সোমবার গভীর রাতে উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যা হাইওয়ের একটি টোল প্লাজার কাছে যখন ঘাতকদের গাড়িটি এসে পৌঁছায়, তখনই চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে সিনেমার কায়দায় তাদের গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের নাম ময়াঙ্করাজ মিশ্র, ভিকি মৌর্য এবং মূল শার্প শুটার রাজ সিংহ।
সিবিআই আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, ধৃতদের ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় এনে জেরা করা হচ্ছে। ধৃতেরা প্রত্যেকেই পেশাদার সুপারি কিলার এবং উত্তর ভারতের একাধিক অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। তবে এই মেগা অপারেশনের আসল মাস্টারমাইন্ড বা ‘মূল মাথা’ কে, এবং ঠিক কী কারণে দেড় কোটি টাকা খরচ করে মুখ্যমন্ত্রীর আপ্তসহায়ককে মাঝরাস্তায় গুলি করে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হলো, ধৃতদের মুখোমুখি বসিয়ে এখন সেই রহস্যেরই উদঘাটন করতে চাইছে সিবিআই। এই গ্রেফতারির পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।