“ফাঁকা সিট দিতে অতিরিক্ত টাকা চাই?” ট্রেনের কালোবাজারি রুখতে যাত্রীদের ব্রহ্মাস্ত্র দিল রেল, সাথে সাথেই হবে অ্যাকশন

রেলওয়ে স্টেশন বা চলন্ত ট্রেনে মাঝেমধ্যেই কিছু অসাধু টিকিট পরীক্ষক বা টিটিই (TTE) দ্বারা যাত্রীদের হেনস্থা ও অতিরিক্ত টাকা দাবি করার অভিযোগ সামনে আসে। বিশেষ করে আরএসি (RAC) বা ওয়েটিং লিস্টের টিকিট থাকা যাত্রীদের ফাঁকা বার্থ বা সিট দেওয়ার নাম করে মোটা অঙ্কের ‘ঘুষ’ চাওয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। অনেক সময় ঝামেলার ভয়ে বা সঠিক নিয়ম না জানার কারণে সাধারণ যাত্রীরা দাবি মতো টাকা দিয়েও দেন। কিন্তু ভারতীয় রেলের (Indian Railways) স্পষ্ট নির্দেশিকা বলছে, এটি সম্পূর্ণ বেআইনি। ট্রেনের সিট পাওয়া আপনার আইনগত অধিকার, কোনো উপরি দেওয়ার জায়গা নয়। চলন্ত ট্রেনে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে আপনার অধিকার এবং রেলের নিয়মগুলি কী, তা জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি:

ফাঁকা সিটের আসল নিয়ম কী?

ভারতীয় রেলের অফিশিয়াল গাইডলাইন অনুযায়ী, চার্ট তৈরি হওয়ার পর যদি কোনো কারণে ট্রেনে বার্থ বা সিট ফাঁকা থাকে, তবে তা নিয়ম মেনে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বরাদ্দ করতে হবে। এই তালিকায় সবার প্রথম অধিকার থাকে আরএসি (Reservation Against Cancellation) টিকিটধারী যাত্রীদের। এরপর যদি আরও সিট ফাঁকা থাকে, তবে তা ওয়েটিং লিস্টের যাত্রীদের দেওয়া হয়। এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি ট্রেনের হ্যান্ডহেল্ড টার্মিনাল (HHT) ডিভাইস বা অফিশিয়াল সিস্টেমের মাধ্যমে স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়। এর জন্য যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত টিকিটের মূল্যের বাইরে অতিরিক্ত একটি টাকাও দাবি করার একবিন্দু অধিকার নেই কোনো টিটিই-র।

অতিরিক্ত টাকা বা ঘুষ চাইলে কী করবেন?

যদি কোনো টিটিই সিটের বিনিময়ে আপনার কাছে অতিরিক্ত টাকা বা ঘুষ দাবি করেন, তবে অবিলম্বে নিচের পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করুন:

  • রসিদ দাবি করুন: যদি কোনো কারণে নিয়মের বাইরে ফাইন বা আপগ্রেডেশন চার্জ চাওয়া হয়, তবে প্রথমেই তাঁর কাছে অফিশিয়াল রসিদ (Receipt) দাবি করুন। রসিদ দিতে অস্বীকার করলে বুঝবেন ডাল মে কুছ কালা হ্যায়।

  • ভিডিও বা অডিও রেকর্ড: কোনো আধিকারিক অন্যায্য টাকা চাইলে বা দুর্ব্যবহার করলে প্রমাণ হিসেবে মোবাইলে তাঁর অডিও বা ভিডিও রেকর্ড করে রাখুন। তবে খেয়াল রাখবেন এতে যেন ট্রেনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়।

  • রেল মদদ অ্যাপ (RailMadad): এটি ভারতীয় রেলের সবচেয়ে শক্তিশালী হেল্পলাইন পোর্টাল। আপনি চলন্ত ট্রেন থেকেই ‘RailMadad’ অ্যাপের মাধ্যমে বা অনলাইনে লগ-ইন করে ওই টিটিই-র নাম, আইডি (যা তাঁর ব্যাজে থাকে) এবং কোচের নম্বর উল্লেখ করে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারেন। এই অ্যাপে অভিযোগ জানালে রেলের ভিজিল্যান্স টিম অত্যন্ত দ্রুত পদক্ষেপ করে।

  • ১৩৯ হেল্পলাইন নম্বর: ইন্টারনেট না থাকলেও চিন্তা নেই। ফোনের ডায়াল প্যাড থেকে সরাসরি ‘139’ নম্বরে কল করে আপনার অভিযোগ নথিভুক্ত করতে পারেন।

  • এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেল: বর্তমান সময়ে অত্যন্ত কার্যকরী উপায় হলো সোশ্যাল মিডিয়া। ওই অসাধু টিটিই-র ছবি বা ভিডিও তুলে রেল মন্ত্রক (@RailMinIndia) এবং সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে জোনকে ট্যাগ করে পিএনআর (PNR) নম্বর-সহ পোস্ট করুন। আধ ঘণ্টার মধ্যে চলন্ত ট্রেনেই রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা আপনার সিটের সামনে পৌঁছে যাবেন।

মনে রাখবেন, সচেতনতাই আপনার সবচেয়ে বড় সুরক্ষা। ভারতীয় রেল যাত্রীদের সুবিধার্থেই নিয়মের সরলীকরণ করেছে। তাই পরবর্তী ট্রেন যাত্রার সময় কোনো অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করে নিজের আইনি অধিকার প্রয়োগ করুন এবং রেল সফরকে সুরক্ষিত ও দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সাহায্য করুন।