বাংলার প্রতি ঘরে পরিশ্রুত জল পৌঁছাতে ঐতিহাসিক চুক্তি! প্রকল্প শুরুর মঞ্চেই কেন শুরু হলো তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর?

রাজ্যের সাধারণ মানুষের দুয়ারে পরিশ্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ করল নতুন সরকার। বহুল চর্চিত ‘জল জীবন মিশন’ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় বা ‘জল জীবন মিশন ২.০’ (JJM 2.0) বাংলায় পুরোদমে কার্যকর করতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে এক মেগা চুক্তি (MoU) স্বাক্ষরিত হলো। তবে এই উন্নয়নমূলক মেগা চুক্তি স্বাক্ষরের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করেই এবার রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্কের ঝড় উঠেছে। চুক্তি মঞ্চ থেকেই পূর্বতন তৃণমূল সরকারের চরম ব্যর্থতা এবং উদাসীনতা নিয়ে সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং উপস্থিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

সোমবার নবান্নে আয়োজিত এই হাইপ্রোফাইল চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। অনুষ্ঠান চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় তোপ দেগে বলেন, “বিগত সরকারের চরম অপশাসন ও সদিচ্ছার অভাবে কেন্দ্রের পাঠানো হাজার হাজার কোটি টাকা থাকা সত্ত্বেও বাংলার লক্ষ লক্ষ গ্রামীণ পরিবার পরিশ্রুত পানীয় জল থেকে বঞ্চিত থেকেছে। জল জীবন মিশনের প্রথম পর্যায়ে বাংলার কাজ ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। বহু ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় তহবিলের সঠিক ব্যবহার করা হয়নি এবং হিসাব দেওয়া হয়নি।”

শুভেন্দুর সুরেই সুর মিলিয়েছেন উপস্থিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বপ্ন হলো দেশের প্রতিটি গ্রামীণ পরিবারের মা-বোনেদের পানীয় জলের কষ্ট দূর করা। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে পূর্বতন সরকারের অসহযোগিতা ও উদাসীনতার কারণে এই মিশন মুখ থুবড়ে পড়েছিল। একাধিক শর্ত পূরণ না করায় এবং কাজের গতি ধীর হওয়ায় রাজ্যবাসী চরম ভুক্তভোগী হয়েছেন।” তবে রাজ্যে প্রশাসনিক পটপরিবর্তনের পর এই মেগা চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ায় এবার কাজের গতি কয়েক গুণ বাড়বে এবং ২০২৮ সালের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আশাপ্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রক।

প্রশাসনিক সূত্রের খবর, এই নতুন ‘জল জীবন মিশন ২.০’ চুক্তির ফলে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ পাওয়ার রাস্তা যেমন পরিষ্কার হলো, তেমনই কাজের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু কড়া শর্তও রাখা হয়েছে। প্রতিটি প্রকল্পের জন্য আলাদা আইডি নম্বর এবং আর্থিক সামঞ্জস্য বজায় রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন সরকার ক্ষমতা দখলের পর যেখানে একের পর এক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের কথা ঘোষণা করছে, সেখানে দিল্লির সঙ্গে এই মেগা চুক্তি স্বাক্ষর এক বিরাট সাফল্য। তবে পানীয় জল দেওয়ার এই প্রশাসনিক মঞ্চ থেকে শুভেন্দু অধিকারীর এই রাজনৈতিক আক্রমণ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সমালোচনা আগামী দিনে বিদায়ী শাসকদলের ওপর যে বাড়তি চাপ তৈরি করবে, তা বলাই বাহুল্য।