ভোট মিটতেই সাইবার ক্রাইম থানার এফআইআর! আইনি রক্ষাকবচ চেয়ে তড়িঘড়ি আদালতের দ্বারস্থ অভিষেক

রাজ্যে ক্ষমতা বদল এবং ভোট-পরবর্তী চরম উত্তেজনার আবহেই এবার আরও এক হাইভোল্টেজ আইনি লড়াইয়ের সাক্ষী হতে চলেছে কলকাতা হাইকোর্ট। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে উদ্দেশ্য করে প্ররোচনামূলক ও আপত্তিকর মন্তব্য এবং সমাজমাধ্যমে অশান্তি ছড়ানোর মারাত্মক অভিযোগে আইনি বিপাকে পড়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশি গ্রেফতারি বা কোনো ধরনের কঠোর পদক্ষেপ এড়াতে এবার তড়িঘড়ি আদালতের বিশেষ সুরক্ষার (রক্ষাকবচ) খোঁজে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের বিদায়ী সাংসদ।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের হাইপ্রোফাইল প্রচারপর্বে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই এই তীব্র বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ উঠেছে, তাঁর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে সম্প্রচারিত নির্বাচনী জনসভার একটি ভাষণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে অত্যন্ত আপত্তিকর ও উস্কানিমূলক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।
এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিধাননগর উত্তর সাইবার ক্রাইম থানায় একটি সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করেন বাগুইআটির সমাজকর্মী রাজীব সরকার। তাঁর দাবি, নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে জনসমক্ষে এমন কিছু বিতর্কিত মন্তব্য করা হয়েছে যা কেবল রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ায়নি, বরং রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটাতে পারত। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ ইতিমধ্যেই একটি এফআইআর (FIR) নথিভুক্ত করেছে। আর এই এফআইআর-এর জেরেই সম্ভাব্য গ্রেফতারির আশঙ্কা তৈরি হওয়ায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী অর্ককুমার নাগ রবিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে আগাম সুরক্ষার আবেদন জানিয়েছেন।
এই মেগা মামলাকে কেন্দ্র করে স্বভাবতই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূল শিবিরের স্পষ্ট অভিযোগ, রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর সম্পূর্ণ প্রতিহিংসামূলক মনোভাব নিয়ে এবং বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতেই নতুন জমানায় এই ধরনের সাজানো মামলা করা হচ্ছে।
পাল্টা সুর চড়িয়েছে বিজেপি নেতৃত্বও। গেরুয়া শিবিরের বক্তব্য, “আইন সবার জন্য সমান এবং আইন তার নিজের পথেই চলবে। জনসমক্ষে বা সামাজিক মাধ্যমে দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করে সমাজে অশান্তি ও উত্তেজনা ছড়ানোর অধিকার কোনো রাজনৈতিক নেতারই নেই।”
আপাতত মে মাসের এই তপ্ত আবহাওয়ায় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক ও আইনি মহল। হাইকোর্টের এই শুনানিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শেষ পর্যন্ত মেগা রক্ষাকবচ পান নাকি তাঁর আইনি বিপদ আরও বাড়ে, এখন সেটাই দেখার।