পরিবর্তনের পরিবর্তন! ১৪ বছর পর পুরনো ফর্মে সেই দুঁদে নারী অফিসার, শুভেন্দুর অ্যাকশন কমিটিতে তোলপাড় রাজ্য

রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর এবার সবচেয়ে বড় এবং তাৎপর্যপূর্ণ প্রশাসনিক রদবদলের সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গ। নবান্নের অলিন্দে এখন সবথেকে বড় আলোচনার বিষয় আইপিএস দময়ন্তী সেনের (Damayanti Sen) হাইপ্রোফাইল প্রত্যাবর্তন। বিগত সরকারের আমলে যে দুঁদে নারী পুলিশ আধিকারিককে একপ্রকার ‘কোণঠাসা’ করে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, নতুন জমানায় তাঁর কাঁধেই রাজ্যের নারী ও শিশুদের সুরক্ষার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

সোমবার বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী এক বিশেষ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে জানান, গত কয়েক বছরে রাজ্যে ঘটে যাওয়া নারী ও শিশুদের ওপর নানাবিধ নির্যাতন এবং অত্যাচারের ঘটনার নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত করতে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আর এই মেগা কমিটির অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে ফিরিয়ে আনা হয়েছে আইপিএস দময়ন্তী সেনকে।

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই নতুন কমিটি শুধুমাত্র ফাইলবন্দি তদন্ত করবে না, বরং এর কাজের পরিধি হবে অত্যন্ত ব্যাপক। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে জনশুনানির মতো করে সরাসরি থানায় থানায় গিয়েও সাধারণ মানুষের অভিযোগ নথিভুক্ত করবে এই বিশেষ কমিটি। ফলে, নির্যাতিতারা যাতে কোনো প্রভাবশালীর ভয়ে পিছিয়ে না যান এবং অনায়াসে পুলিশের কাছে পৌঁছাতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করাই হবে দময়ন্তী সেনের নেতৃত্বাধীন এই কমিটির মূল লক্ষ্য।

১২ বছর আগের স্মৃতি মনে করালে অনেকেই জানেন, ২০১২ সালের বিখ্যাত পার্ক স্ট্রিট গণধর্ষণ কাণ্ডের কিনারা করে লাইমলাইটে এসেছিলেন তৎকালীন কলকাতা পুলিশের জয়েন্ট সিপি (ক্রাইম) দময়ন্তী সেন। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ওই ঘটনাকে ‘সাজানো ঘটনা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন, তখন দময়ন্তী সেনের নেতৃত্বাধীন টিমই নিজের কর্তব্যে অবিচল থেকে অপরাধীদের গ্রেফতার করে এবং প্রমাণ করে যে ঘটনাটি সত্যি ছিল। কিন্তু এই সততার পুরস্কার হিসেবে তার কিছুদিন পরেই তাঁকে লালবাজার থেকে সরিয়ে কার্যত কম গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলি করা হয়।

প্রশাসনিক মহলের মতে, পার্ক স্ট্রিট কাণ্ড-সহ একাধিক জটিল অপরাধের কিনারা করা সেই আইপিএস দময়ন্তী সেনকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো এক ঐতিহাসিক বার্তা। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মজবুত করতে এবং বিশেষ করে নারী সুরক্ষায় যে নতুন মুখ্যমন্ত্রী জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে চলতে চান, এই নিয়োগ তারই সবচেয়ে বড় প্রমাণ। এই মেগা প্রত্যাবর্তনের পর অপরাধীদের মনে যেমন ত্রাস তৈরি হবে, তেমনই সাধারণ মানুষের মনে পুলিশের প্রতি আস্থা ফিরবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।