সুপ্রিম-সংশয়ে ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক! দেশের সর্বোচ্চ আদালতের এই এক প্রশ্নেই ঘুম উড়ল কর্মরতদের

রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের বহু চর্চিত ও অত্যন্ত সংবেদনশীল ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি সংক্রান্ত মামলাটিতে এবার এক নতুন এবং নজিরবিহীন মোড় এল। কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দেওয়া চাকরি বহালের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের দায়ের করা মামলাটি অবশেষে শুনানির জন্য গ্রহণ করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। তবে মামলাটি গ্রহণের পাশাপাশি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার পরিকাঠামো এবং শিক্ষকদের মান নিয়ে এক অত্যন্ত কড়া ও তাৎপর্যপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে শীর্ষ আদালত।

সোমবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার ডিভিশন বেঞ্চে এই মেগা মামলার শুনানি হয়। শুনানির এক পর্যায়ে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত স্পষ্ট ভাষায় পর্যবেক্ষণ করেন, “আমাদের শিশুরা যথাযথ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকের থেকে শিক্ষা পাচ্ছেন কিনা, সেটা সবার আগে জানা প্রয়োজন। আমাদের এটা নিশ্চিত হতে হবে যে যারা আমাদের বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ গড়ছেন, তাঁদের সেই উপযুক্ত যোগ্যতামান বা সঠিক প্রশিক্ষণ আছে কিনা।” আদালত স্পষ্ট করে জানতে চেয়েছে, চাকরি পাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে কতজন আদৌ টেট (TET) পাশ। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের এই মন্তব্য ঘিরেই এখন জোর সংশয় ও তোলপাড় তৈরি হয়েছে রাজ্যের শিক্ষা মহলে।

তবে মামলাটি গ্রহণ করলেও কর্মরত শিক্ষকদের জন্য এখনই কোনো চরম সিদ্ধান্ত বা স্থগিতাদেশ জারি করেনি শীর্ষ আদালত। এর অর্থ হলো, কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায়ের পর শিক্ষকেরা বর্তমানে যে অবস্থায় বহাল ছিলেন, ঠিক সেই অবস্থাতেই স্বস্তিতে নিজেদের কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। আপাতত কারও চাকরি যাচ্ছে না।

আইনি লড়াইয়ের এই ইতিহাস বেশ নাটকীয়। ২০২৩ সালের মে মাসে কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সিঙ্গল বেঞ্চ বেআইনি নিয়োগ ও নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিলের ঐতিহাসিক নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে হাইকোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ সেই রায় খারিজ করে মানবিক কারণে এই ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বহাল রাখার নির্দেশ দেয়। ডিভিশন বেঞ্চের যুক্তি ছিল, দীর্ঘ ৯ বছর চাকরি করার পর একলপ্তে এত মানুষের রুটি-روজি কেড়ে নেওয়া যায় না।

হাইকোর্টের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বঞ্চিত যোগ্য প্রার্থীরা। দেশের সর্বোচ্চ আদালত মামলাটি গ্রহণ করায় কর্মরত শিক্ষকদের মনে আংশিক স্বস্তি থাকলেও, সুপ্রিম কোর্টের কড়া প্রশ্নের পর আগামী দিন নিয়ে উৎকণ্ঠা পুরোপুরি কাটল না। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, আগামী আগস্ট মাসের তৃতীয় সপ্তাহে এই মামলার পরবর্তী চূড়ান্ত শুনানি হবে, যেখানে সমস্ত পক্ষের সওয়াল-জবাব খতিয়ে দেখে বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারে আদালত। আগস্টের সেই মেগা শুনানির দিকেই এখন বুক দুরুদুরু বুকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্যের শিক্ষা ও রাজনৈতিক মহল।