ইচ্ছেমতো ফি বাড়ালেই কড়া অ্যাকশন! নতুন শিক্ষানীতি চালুর মাঝেই শিক্ষা মাফিয়াদের ঘুম ওড়ালেন শুভেন্দু অধিকারী

রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে এক বড়সড় এবং ঐতিহাসিক আমূল পরিবর্তন ঘটতে চলেছে। অবশেষে রাজ্যজুড়ে সর্বাত্মকভাবে লাগু হতে চলেছে বহু চর্চিত ‘জাতীয় শিক্ষা নীতি’ (NEP)। তবে এই নতুন শিক্ষানীতি কার্যকর করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের মাঝেই রাজ্যের বেসরকারি স্কুল এবং কলেজগুলির মনমানি ও অতিরিক্ত ফি বৃদ্ধি নিয়ে কড়া অবস্থান নিল প্রশাসন। নবান্নের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, শিক্ষার নামে ব্যবসা বা সাধারণ অভিভাবকদের পকেট কাটা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে产品的।

সম্প্রতি শিক্ষা দপ্তরের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির ফি কাঠামো নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, জাতীয় শিক্ষানীতি চালু হওয়ার পর রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। অনেক বেসরকারি স্কুল ও কলেজ পরিকাঠামো উন্নয়নের দোহাই দিয়ে প্রতি বছর ইচ্ছেমতো ফি বাড়িয়ে চলেছে, যা মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে বহন করা অসম্ভব হয়ে উঠছে।

মুখ্যমন্ত্রী প্রাইভেট স্কুল ও কলেজ কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে বলেন, “বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি নিজেদের আইন-কানুনের ঊর্ধ্বে বা জমিদার ভাববেন না। সরকারের তৈরি করা নির্দিষ্ট গাইডলাইন বা ফি কাঠামো মেনেই আপনাদের চলতে হবে।” তিনি আরও জানান, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি নিয়ম লঙ্ঘন করে অভিভাবকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করে বা ভর্তির নামে মোটা অঙ্কের ক্যাপিটেশন ফি দাবি করে, তবে তাদের লাইসেন্স বাতিল-সহ কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

প্রশাসন সূত্রে খবর, বেসরকারি স্কুল ও কলেজগুলির ফি নিয়ন্ত্রণ করতে এবং তাদের আয়-ব্যয়ের খতিয়ান খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ ‘রেগুলেটরি কমিটি’ বা নিয়ামক সংস্থাকে আরও সক্রিয় করা হচ্ছে। এই কমিটি নিয়মিত স্কুলগুলির ফি কাঠামোর ওপর নজরদারি চালাবে।

একদিকে জাতীয় শিক্ষানীতির হাত ধরে সিলেবাস ও শিক্ষা ব্যবস্থায় যেমন আধুনিকীকরণ আসছে, তেমনই অন্যদিকে বেসরকারি স্কুলগুলির ওপর সরকারের এই কড়া নজরদারির সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন রাজ্যের লাখ লাখ অভিভাবক। নতুন এই শিক্ষানীতি এবং ফি সংক্রান্ত কড়া নির্দেশিকা আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে বলে নবান্ন সূত্রে জানা গেছে।