টাকার লোভে গিয়ে মিলল ইলেকট্রিক শক! কম্বোডিয়া মানব পাচার চক্রের মূল পান্ডা ‘মুন্না’ সহ ৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট এনআইএ-র

বিদেশি সংস্থায় ডেটা এন্ট্রি বা কাস্টমার সাপোর্টের কাজ, সাথে মাসে লক্ষাধিক টাকা বেতন আর থাকা-খাওয়ার রাজকীয় সুযোগ— এই লোভনীয় টোপকে হাতিয়ার করে দেশের বেকার যুবকদের কম্বোডিয়ায় পাচার করার এক আন্তর্জাতিক মেগা র‍্যাকেটের পর্দাফাঁস করল ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)। মোটা বেতনের লোভ দেখিয়ে ভারতীয় যুবকদের কম্বোডিয়ার ভয়ংকর ‘সাইবার দাসত্ব’ (Cyber Slavery) এবং আন্তর্জাতিক স্ক্যামিং চক্রের হাতে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে মূল চক্রী বা কিংপিন আনন্দ কুমার সিং ওরফে মুন্না সিং সহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে বিশেষ এনআইএ আদালতে চার্জশিট পেশ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

তদন্তে নেমে এনআইএ-র গোয়েন্দারা এই মানব পাচার সিন্ডিকেটের যে কাজের খতিয়ান পেয়েছেন, তা কার্যত হাড়হিম করা। ভারতজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন সাব-এজেন্ট এবং ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমে প্রথমে লক্ষ্য করা হতো সহজ-সরল ও চাকরিপ্রার্থী যুবকদের। এরপর বৈধ চাকরি ও ওয়ার্ক ভিসার নাম করে তাঁদের পাঠানো হতো কম্বোডিয়ায়। কিন্তু সেখানে পা রাখামাত্রই কেড়ে নেওয়া হতো তাঁদের পাসপোর্ট ও ফোন। এরপর এক একটি জাল বা ফেক কোম্পানির কাছে ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২ থেকে ৩ লক্ষ টাকার (২,০০০ থেকে ৩,০০০ ইউএস ডলার) বিনিময়ে ‘বিক্রি’ করে দেওয়া হতো এই যুবকদের।

কম্বোডিয়ার এই দুর্ভেদ্য ‘স্লেভ কম্পাউন্ড’ বা দাস শিবিরে বন্দি করে ভারতীয় যুবকদের দিয়ে ভারতেরই নাগরিকদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার অনলাইন জালিয়াতি, ডিজিটাল অ্যারেস্ট এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি স্ক্যামের মতো অপরাধ করানো হতো। কোনো যুবক যদি এই অবৈধ কাজ করতে অস্বীকার করতেন, তবে তাঁর ওপর নেমে আসত অবর্ণনীয় ও পৈশাচিক নির্যাতন। এনআইএ জানিয়েছে, বন্দি যুবকদের দিনের পর দিন একটি বদ্ধ ঘরে আটকে রাখা, খাবার ও জল না দেওয়া, মানসিক নির্যাতন এবং চরম অবাধ্যতায় সরাসরি ইলেকট্রিক শক পর্যন্ত দেওয়া হতো।

এই ভয়ংকর চক্রের মূল পান্ডা আনন্দ কুমার সিং দেশের বাইরে আত্মগোপন করে থাকলেও, ইতিমধ্যে তাঁর অবৈধ উপায়ে অর্জিত কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে প্রশাসন। এই চক্রের অন্যতম তিন সহযোগী অভয় নাথ দুবে, রোহিত যাদব এবং অভিরঞ্জন কুমারকে কম্বোডিয়া থেকে দিল্লি বিমানবন্দরে পা রাখামাত্রই গ্রেফতার করা হয়। ধৃত প্রলাদ কুমার সিং বর্তমানে জামিনে থাকলেও তার ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। ভারত, চীন ও হংকংয়ের মাস্টারমাইন্ডদের ইশারায় চলা এই আন্তর্জাতিক সাইবার ক্রাইম নেটওয়ার্কের শিকড় আর কতদূর বিস্তৃত, তা জানতে এবং বাকি অপরাধীদের ধরতে তদন্ত জারি রেখেছে এনআইএ।