“কাউকে ছাড়া হবে না!”-ফলতার পুনর্নির্বাচনের আগে ঠিক কী হুঁশিয়ারি দিলেন শুভেন্দু

ফলতা বিধানসভার পুনর্নির্বাচনের আবহে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার রাজনৈতিক পারদ এক ধাক্কায় চড়ে গেল কয়েক গুণ। শনিবার বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডার সমর্থনে আয়োজিত এক হাইভোল্টেজ জনসভা থেকে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

এদিন ফলতার সভা থেকে সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তি নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “মাননীয় ভাইপো বাবু, কালকে প্রপার্টির লিস্টটা আনালাম কলকাতা কর্পোরেশন থেকে। আপনার লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস-এর ২৪টা প্রপার্টি রয়েছে কলকাতায়! আমতলায় প্রাসাদের মতো অফিস বানিয়েছেন। কতজন মানুষ ঘরছাড়া আছে এবার দেখান আমাকে!” তথাকথিত ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’-কে তীব্র কটাক্ষ করে শুভেন্দুর দাবি, গত এক দশক ধরে ফলতা ও ডায়মন্ড হারবার এলাকায় মানুষ স্বাধীন ভাবে ভোটই দিতে পারেননি। ফলে এই পুনর্নির্বাচন স্রেফ একজন বিধায়ক জেতানোর লড়াই নয়, এটি আসলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই।

শুধু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই নন, আরজি কর কাণ্ড নিয়ে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও সরাসরি কাঠগড়ায় তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। আরজি করের ঘটনায় কর্তব্যে গাফিলতি ও প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে সম্প্রতি তিন পুলিশকর্তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, “অভয়ার ঘটনায় আগের মুখ্যমন্ত্রীর ইশারায় এবং কথায় যাঁরা যাঁরা অত্যাচার করেছেন, প্রমাণ লোপাট করেছেন, আরজি কর নির্যাতিতার মাকে আগের হেরো মুখ্যমন্ত্রীর কথায় যাঁরা ঘুষ দিতে গিয়েছিলেন, সেই তিন আইপিএস (IPS) সাসপেন্ড হয়েছেন। এই জেলাতেও অন্যায় করে কেউ পার পাবে না, কাউকে ছাড়া হবে না।”

এদিন সভামঞ্চ থেকে এলাকার বিজেপি কর্মীদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পুলিশকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে গত পাঁচ বছরে সাধারণ মানুষের ওপর হওয়া সমস্ত অত্যাচারের অভিযোগ নেওয়া হয় এবং এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়। আবাস যোজনা, আমফান এবং কৃষক প্রকল্পের মতো একাধিক সরকারি স্কিমে হওয়া দুর্নীতির তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর যে একাধিক কড়া পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে, তা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, এলাকায় কোনো গুন্ডামি বরদাস্ত করা হবে না।