মাদ্রাসার আড়ালে বেআইনি কারবার? বাংলায় কড়া অ্যাকশনের হুঁশিয়ারি দিয়ে কী বার্তা দিলেন সংখ্যালঘু মন্ত্রী?

রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর এবার বেআইনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসাগুলির বিরুদ্ধে এক নজিরবিহীন কঠোর পদক্ষেপের পথে হাঁটতে চলেছে নতুন সরকার। পশ্চিমবঙ্গে সচল থাকা সমস্ত অবৈধ মাদ্রাসার (Illegal Madrasas) বিরুদ্ধে খুব শীঘ্রই এক বড়সড় ও নিশ্ছিদ্র অভিযান শুরু হতে চলেছে বলে সাফ জানিয়ে দিলেন রাজ্যের নতুন সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু। ১৬ মে বিকেলে তাঁর এই বিস্ফোরক ও কড়া ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অলিন্দে জোর তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছে।

শনিবার কলকাতার এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু সরকারের এই কঠোর অবস্থানের কথা স্পষ্ট করে দেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, “পশ্চিমবঙ্গে আইন বহির্ভূতভাবে চলা কোনো অবৈধ বা বেআইনি মাদ্রাসা বরদাস্ত করা হবে না। নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে গড়ে ওঠা এই ধরণের সমস্ত প্রতিষ্ঠানে অবিলম্বে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হবে।”

প্রশাসনিক সূত্রে খবর, রাজ্যে এমন বহু মাদ্রাসা রয়েছে যেগুলির কোনো বৈধ সরকারি অনুমোদন বা নথিপত্র নেই। এই সমস্ত প্রতিষ্ঠানের আড়ালে কোনো রকম অনৈতিক বা সন্দেহজনক কাজকর্ম চলছে কি না, তা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে নানা মহলে প্রশ্ন উঠছিল। সেই কারণেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রকৃত শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং রাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এই কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে শিক্ষা দপ্তরের একটি সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।

সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বৈধ এবং নিয়ম মেনে চলা মাদ্রাসাগুলির আধুনিকীকরণে সরকার সব রকমের সাহায্য করবে। তবে যেগুলি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে সরকারি নজরদারির বাইরে চালানো হচ্ছে, সেগুলির বিরুদ্ধে কোনো রকম আপস করা হবে না। এই বিষয়ে খুব শীঘ্রই একটি সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন এবং তদন্ত কমিটি গঠন করে রাজ্যজুড়ে স্ক্রুটিনি বা যাচাইকরণ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। নতুন সরকারের এই মেগা সিদ্ধান্তের পর এখন জেলা স্তরের অলিন্দে অলিন্দে বেআইনি মাদ্রাসাগুলির তালিকা তৈরির তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছে।