“কারা কারা ছিলেন সেদিন?” অভয়াকাণ্ডে প্রমাণ লোপাটের মাস্টারমাইন্ডদের নাম নিয়ে নজিরবিহীন হুঙ্কার মুখ্যমন্ত্রীর

আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অভয়াকাণ্ড নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের মেগা পুনর্নির্বাচনী জনসভা থেকে এই হাইপ্রোফাইল মামলা নিয়ে নজিরবিহীন বিস্ফোরক দাবি করলেন তিনি। সরাসরি অভিযোগ তুললেন, বিগত দিনে ক্ষমতা ও পদের অপব্যবহার করে এই ঘটনার সমস্ত তথ্য-প্রমাণ লোপাট করা হয়েছিল এবং এর পেছনে খোদ ‘হেরো মুখ্যমন্ত্রী’র সরাসরি নির্দেশ ছিল।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এদিন প্রথম ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ফলতায় নির্বাচনী প্রচারে আসেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে জনজোয়ারের সামনে দাঁড়িয়ে আর জি কর মামলার তদন্তের গতিপ্রকৃতি এবং তথ্য-প্রমাণ নষ্টের প্রসঙ্গ টেনে আনেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “অভয়াকাণ্ডে হেরো মুখ্যমন্ত্রীর কথায় এবং ইশারায় সমস্ত প্রমাণ লোপাট করা হয়েছে। কার স্বার্থে, কাকে বাঁচাতে মাঝরাতে হাসপাতালের ভেতরে সন্দীপ ঘোষদের দিয়ে ওই নোংরা খেলা খেলানো হয়েছিল, তা আজ বাংলার মানুষ ভালো করেই জানেন।”

এখানেই শেষ নয়, প্রমাণ লোপাটের এই চক্রান্তের পেছনে কারা কারা জড়িত ছিলেন এবং সেদিন রাতে ঠিক কী ঘটেছিল, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রশাসনের নজরে রয়েছে বলে ইঙ্গিত দেন মুখ্যমন্ত্রী। তৎকালীন পুলিশ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তরের কিছু শীর্ষ কর্তার নাম না করে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দেন। শুভেন্দু বলেন, “যাঁরা ভেবেছিলেন প্রমাণ মুছে দিয়ে পার পেয়ে যাবেন, তাঁদের প্রতি মুহূর্তের হিসাব নেওয়া হবে। সিবিআই তদন্তের পাশাপাশি রাজ্য সরকারও এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকটি মাথাকে চিহ্নিত করছে। আইন কাউকে রেয়াত করবে না।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, আগামী ২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে হতে চলেছে হাইভোল্টেজ পুনর্নির্বাচন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিশ্ছিদ্র নজরদারিতে এই ভোট যাতে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ হয়, তার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি আর জি করের মতো সংবেদনশীল ইস্যুকে হাতিয়ার করে ফলতার মাটিতে দাঁড়িয়ে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন শুভেন্দু। ভোটমুখী বাংলায় ‘অভয়াকাণ্ডে প্রমাণ লোপাট’ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই চাঞ্চল্যকর ও চাঁছাছোলা বক্তব্য যে আগামী দিনগুলোতে রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।