পুলিশ মহলে নজিরবিহীন অ্যাকশন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর! ভেঙে দেওয়া হলো ওয়েলফেয়ার বোর্ড, সাধারণ মানুষের জন্য এল বড় সুযোগ!

প্রশাসনিক স্তরে এক নজিরবিহীন ও অত্যন্ত সাহসী পদক্ষেপ নিলেন পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই একের পর এক কড়া সিদ্ধান্ত নিয়ে চমক দিচ্ছেন তিনি। এবার তাঁর সরাসরি কোপ পড়ল পুলিশ প্রশাসনের ওপর। দীর্ঘদিনের পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড এক ঝটকায় ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় জারি করলেন অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ এক নতুন নিয়ম।
প্রশাসন সূত্রে খবর, পুলিশকর্মীদের একাংশের একাগ্রতার অভাব এবং ক্ষমতার অপব্যবহার রুখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবার থেকে সাধারণ মানুষের ওপর পুলিশের যেকোনো ধরনের ক্ষমতার অপব্যবহার, হেনস্থা বা অত্যাচারের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যাবে। এমনকি, এই ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে খোদ থানার বিরুদ্ধেই অন্য থানায় বা উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের কাছে গিয়ে অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন সাধারণ নাগরিকরা।
ভেঙে দেওয়া হলো পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড
দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ডের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশাসনের অন্দরেই বেশ কিছু প্রশ্ন উঠছিল। অভিযোগ উঠছিল, এই বোর্ডের ছত্রছায়ায় পুলিশের একাংশ নিজেদের আড়াল করার সুবিধা পাচ্ছিল এবং সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগকে সঠিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছিল না। এই ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটাতেই মুখ্যমন্ত্রী বোর্ডটি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর ফলে পুলিশি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং সাধারণ মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা অনেকটাই বাড়বে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
অত্যাচারের বিরুদ্ধে এবার থানাতেই অভিযোগ
নতুন এই নির্দেশিকার ফলে সবথেকে বেশি স্বস্তি পাবেন সাধারণ নাগরিকরা। এতদিন পর্যন্ত কোনো থানার পুলিশ আধিকারিক বা কর্মীর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের হেনস্থার অভিযোগ উঠলে, তা নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া বেশ জটিল ছিল। অনেক ক্ষেত্রেই অভিযোগ নিতে গড়িমসি করার ঘটনা সামনে আসত।
মুখ্যমন্ত্রীর নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, এবার থেকে কোনো সাধারণ নাগরিক যদি পুলিশের দ্বারা কোনোভাবে অত্যাচারিত বা হেনস্থার শিকার হন, তবে তিনি সরাসরি সংশ্লিষ্ট থানার বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করতে পারবেন। কোনো থানা যদি সহকর্মী বা নিজেদের দপ্তরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে, তবে সেই থানার ওসির (OC) বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নবান্ন সূত্রে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই কড়া মনোভাব স্পষ্ট করে দিল যে, নতুন সরকারের আমলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কোনো রকম আপস করা হবে না—তা সে সাধারণ অপরাধীই হোক কিংবা খোদ উর্দিধারী পুলিশ। এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের পর রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটবে বলেই আশা করছে আপামর জনতা।