বিদেশ গেলেই কি গুনতে হবে বাড়তি ট্যাক্স?এক্স হ্যান্ডেলে মোদীর এক লাইনের পোস্টে হইচই!

বিশ্ববাজারের অস্থিরতা, অপরিশোধিত তেলের আকাশছোঁয়া দাম আর যুদ্ধের আবহে বিদেশ ভ্রমণের উপর কেন্দ্র নতুন কোনো কর বা সেস বসাতে চলেছে— সম্প্রতি একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এমন এক চাঞ্চল্যকর দাবিতে তোলপাড় শুরু হয়েছিল দেশজুড়ে। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই খবর ঘিরে আমজনতা থেকে শুরু করে বিভ্রান্ত নেটিজেনদের মধ্যে তৈরি হয়েছিল তীব্র উৎকণ্ঠা। তবে সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এগিয়ে এসে এই খবরকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কড়া বার্তার পর সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমটিও নিজেদের ভুল স্বীকার করে সেই প্রতিবেদনটি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।
কী দাবি করা হয়েছিল সেই প্রতিবেদনে?
সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ক্রমবর্ধমান আমদানি ব্যয় এবং বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক চাপ সামাল দিতে বিদেশ ভ্রমণের উপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা বা সাময়িক কর চাপানোর বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনাধীন রয়েছে। এমনকি এই কর এক বছরের জন্য বলবৎ হতে পারে এবং তা থেকে সংগৃহীত অর্থ সরাসরি কেন্দ্রীয় রাজকোষে যাবে বলেও দাবি করা হয়। তবে সেই সময় অর্থ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সিলমোহর বা প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
কিন্তু প্রতিবেদনটি প্রকাশ হতেই হু হু করে ছড়িয়ে পড়ে গুজব। ব্যবসা, উচ্চশিক্ষা বা পর্যটনের কারণে যারা নিয়মিত বিদেশ যাতায়াত করেন, তাদের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি তৈরি হয়। সোশ্যালে শুরু হয়ে যায় তুমুল চর্চা।
আসরে নামলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী
পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে দেখে আর দেরি করেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ (পূর্বতন টুইটার) একটি পোস্টে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় এই জল্পনার অবসান ঘটান।
কড়া ভাষায় প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। এর মধ্যে এক বিন্দুও সত্য নেই। বিদেশ ভ্রমণের উপর এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা বা নতুন কর আরোপের প্রশ্নই ওঠে না।” নাগরিকদের আশ্বস্ত করে তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের সরকার সবসময় দেশবাসীর জন্য ব্যবসা করার সুবিধা এবং তাঁদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
This is totally false.
Not an iota of truth in this.
There is no question of putting such restrictions on foreign travel.
We remain committed to improving ‘Ease of Doing Business’ and ‘Ease of Living’ for our people. https://t.co/9lxjbxz0nV
— Narendra Modi (@narendramodi) May 15, 2026
h3 data-path-to-node=”10″>
স্বস্তিতে আমজনতা থেকে বাজার
প্রধানমন্ত্রীর এই সরাসরি হস্তক্ষেপে এক লহমায় কেটে গিয়েছে সমস্ত ধোঁয়াশা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিশ্বজুড়ে চলা বর্তমান অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সুযোগ নিয়ে এই ধরনের গুজব খুব দ্রুত ডালপালা মেলে। তবে খোদ দেশের প্রধানমন্ত্রীর এই স্পষ্ট বার্তা বাজার এবং সাধারণ মানুষ— উভয় পক্ষকেই বড়সড় স্বস্তি দিয়েছে।
কারণ বর্তমান যুগে বিদেশ ভ্রমণ শুধু ঘুরে বেড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক ব্যবসা, উচ্চশিক্ষা, বিদেশি বিনিয়োগ এবং সাংস্কৃতিক আদানপ্রদানের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি। ফলে প্রধানমন্ত্রীর এই বিবৃতির পর আপাতত হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন বিদেশযাত্রীরা।