হাহাকার দালালাল স্ট্রিটে! এক ধাক্কায় ২৩,৬৫০-এর নিচে নিফটি, পকেটে টান সাধারণ বিনিয়োগকারীদের?

সপ্তাহের শেষ কাজের দিনে বড়সড় ধাক্কা খেল ভারতীয় শেয়ার বাজার। গত দুই দিনের টানা বৃদ্ধির পর শুক্রবার এক ধাক্কায় লাল সঙ্কেতে গিয়ে থামল দালাল স্ট্রিটের গ্রাফ। বাজার বন্ধের সময় বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক সেনসেক্স প্রায় ১৬০ পয়েন্ট পড়ে থিতু হয় ৭৫,২৩৭-এর ঘরে। অন্যদিকে, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক নিফটি-৫০ প্রায় ৪৬ পয়েন্ট হারিয়ে নেমে গেছে ২৩,৬৫০-এর নিচে, যা বিনিয়োগকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব বাজারের একাদিক নেতিবাচক পরিস্থিতি এবং টাকার রেকর্ড দরপতনই আজকের এই ধসের মূল কারণ। শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Brent Crude) দাম ব্যারেল প্রতি ১০৯ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ভারত তার প্রয়োজনের সিংহভাগ তেল আমদানি করে, তাই তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতি ও মুদ্রাস্ফীতির ওপর চাপ বাড়াবে, এই আশঙ্কায় সকাল থেকেই ব্যাকফুটে ছিল বাজার। এর ওপর মার্কিন ডলারের তুলনায় ভারতীয় টাকার দাম সর্বকালীন রেকর্ড ভেঙে ৯৬ টাকার গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলে।
এদিন সবচেয়ে বেশি মার খেয়েছে মেটাল, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক এবং রিয়েলটি সেক্টর। সেনসেক্সের অন্তর্ভুক্ত শেয়ারগুলির মধ্যে টাটা স্টিল, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ, এসবিআই এবং আলট্রাটেক সিমেন্টের শেয়ারে প্রায় ১.৫ থেকে ২ শতাংশ পর্যন্ত পতন দেখা গেছে। মধ্য ও স্বল্প পুঁজির (Midcap and Smallcap) শেয়ারগুলিতেও এদিন বিনিয়োগকারীরা দেদার মুনাফা তুলে নেওয়ায় ধস আরও ত্বরান্বিত হয়।
তবে এই চরম মন্দার বাজারেও কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে আইটি এবং এফএমসিজি সেক্টর। ইনফোসিস, টেক মহিন্দ্রা, মারুতি সুজুকি এবং ভারতী এয়ারটেলের মতো কিছু বড় শেয়ার ১ থেকে ২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে সূচককে আরও বড় পতনের হাত থেকে রক্ষা করেছে। বাজার বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, নিফটি যদি ২৩,৫০০-এর মনস্তাত্ত্বিক স্তর ধরে রাখতে না পারে, তবে আগামী সপ্তাহে শেয়ার বাজারে আরও বড় কারেকশন বা পতনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।