১৫ বছরের বিস্ময় বালককে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ডি ভিলিয়ার্সের! কোচের দেওয়া কোন ২ মন্ত্রে পাল্টা হুঙ্কার বৈভবের?

বিশ্ব ক্রিকেটে এই মুহূর্তে সবচেয়ে আলোচিত নাম ১৫ বছর বয়সী বিস্ময় বালক বৈভব সূর্যবংশী। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজের ব্যাটিং তাণ্ডবে ইতিমধ্যেই নির্বাচকদের ঘুম কেড়ে নিয়েছেন এই কিশোর। তবে বৈভবের এই উত্থান নিয়ে এবার মুখ খুললেন দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি এবি ডি ভিলিয়ার্স। বৈভবের প্রতিভার প্রশংসা করলেও তার সামনে এক কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন ‘মিস্টার ৩৬০ ডিগ্রি’।
কী বললেন এবি ডি ভিলিয়ার্স?
স্টুয়ার্ট ব্রডের বিখ্যাত পডকাস্ট ‘ফর দ্য লাভ অফ ক্রিকেট’-এ কথা বলতে গিয়ে ডি ভিলিয়ার্স জানান, এই বয়সে বৈভবের প্রতিভা সত্যিই অবিশ্বাস্য। কিন্তু তিনি মনে করেন, আসল পরীক্ষা টি-টোয়েন্টি নয়, বরং টেস্ট ক্রিকেট। ডি ভিলিয়ার্সের কথায়, “টেস্ট ক্রিকেট একজন খেলোয়াড়কে মানসিকভাবে এবং শারীরিকভাবে নিংড়ে নেয়। আমি দেখতে চাই লাল বলের ক্রিকেটে বৈভব নিজেকে কতটা প্রমাণ করতে পারে। সেখানেই বোঝা যাবে ও কতটা লম্বা রেসের ঘোড়া।”
পাল্টা হুঙ্কার কোচের: বৈভব তৈরি!
ডি ভিলিয়ার্সের এই মন্তব্য নিয়ে তোলপাড় শুরু হতেই ময়দানে নেমেছেন বৈভবের কোচ মনীশ ওঝা। তিনি সাফ জানিয়েছেন, যারা ভাবছেন বৈভব শুধু টি-টোয়েন্টির খেলোয়াড়, তারা ভুল করছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে বিহারের হয়ে লাল বলের বিপক্ষে ইতিমধ্যেই বড় ইনিংস খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে এই কিশোরের। কোচের আত্মবিশ্বাসী দাবি, ডি ভিলিয়ার্সের দেওয়া চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করার সব রসদ বৈভবের মধ্যে রয়েছে।
সাফল্যের জন্য দুই ‘গুরুমন্ত্র’
ডি ভিলিয়ার্সের মতো কিংবদন্তির চ্যালেঞ্জ জিততে শিষ্যকে বিশেষ দুটি পরামর্শ দিয়েছেন কোচ মনীশ ওঝা। তিনি মনে করেন, এই দুটি জায়গায় শাণিত করলেই বৈভব হবে অজেয়:
বল ছাড়ার দক্ষতা (Leaving the Ball): লাল বলের ক্রিকেটে সব বল খেলা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। কোন বলটি ছাড়তে হবে, সেই ধৈর্য বাড়ানোই হবে বৈভবের প্রধান কাজ।
শারীরিক ফিটনেস: টেস্ট ক্রিকেটের পাঁচ দিন মাঠে টিকে থাকার জন্য শারীরিক সক্ষমতাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে হবে।
ঘরোয়া ক্রিকেটে ইতিপূর্বে বল ছেড়ে দিয়ে বড় ইনিংস খেলার রেকর্ড থাকলেও, আন্তর্জাতিক মানের চ্যালেঞ্জ নিতে এই শক্তিকেই আরও শাণিত করতে হবে বৈভবকে। এখন দেখার, ক্রিকেটের রাজপুত্র ডি ভিলিয়ার্সের এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে ১৫ বছরের এই তরুণ তুর্কি টেস্টের আঙিনায় কবে ইতিহাস গড়েন।