“আগে জিতে আসুন, তারপর জোট!” মমতাকে চরম অবমাননা নওশাদের, ভাঙড়ের বিধায়কের চাঞ্চল্যকর চ্যালেঞ্জে কাঁপছে নবান্ন

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিপর্যয়ের পর এখন বড় প্রশ্ন—বিরোধী শিবিরে কি নতুন কোনও সমীকরণ তৈরি হচ্ছে? তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে বিরোধী দলগুলোকে এক হয়ে লড়ার আহ্বান জানালেও, সেই প্রস্তাব কার্যত আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করল বাম, কংগ্রেস এবং আইএসএফ। তবে ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির আক্রমণ শাণিত ছিল সবথেকে বেশি। সরাসরি মমতাকে উপনির্বাচনে জিতে বিধানসভায় আসার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন তিনি।
“আগে বিধানসভায় জিতে আসুন,” নজিরবিহীন কটাক্ষ নওশাদের
রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি বিরোধী মহাজোটের ডাক দিয়েছেন। কিন্তু নওশাদ সিদ্দিকি এই প্রস্তাবকে স্রেফ হেসেই উড়িয়ে দিচ্ছেন না, বরং পাল্টা বিঁধছেন। এদিন বিধানসভায় এসে তিনি বলেন, “তৃণমূল এবার ৮০টি আসনে জিতেছে। সেই বিধায়কদের মধ্যে কেউ একজন পদত্যাগ করুন এবং মমতাকে বিধানসভায় পাঠানোর ব্যবস্থা করুন। তিনি আগে নিজে জিতে বিধানসভায় আসুন, তারপর জোট নিয়ে ভাবা যাবে।”
উল্লেখ্য, এবার নির্বাচনে পরাজয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই মুহূর্তে বিধানসভার সদস্য নন। সেই ‘ক্ষতে’ই কার্যত লবন ছিটিয়ে নওশাদ বুঝিয়ে দিলেন, এই মুহূর্তে তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে আলোচনার কোনও জায়গাই নেই।
সন্ত্রাসের আবহেও ভাঙড়ে ‘কিং মেকার’ নওশাদ
ভাঙড়ে শওকত মোল্লার মতো দাপুটে নেতার রক্তচক্ষু এবং তৃণমূলের ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের অভিযোগকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে টানা দ্বিতীয়বার জিতেছেন নওশাদ। শুধু জয় নয়, গতবারের চেয়েও বেশি ব্যবধানে জিতে তিনি প্রমাণ করেছেন ভাঙড় এখন তাঁরই গড়। নওশাদ বলেন, “মানুষ এবার তৃণমূলের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। আমার দায়িত্ব অনেক বেড়েছে, আমি সবার জন্যই কাজ করতে চাই।”
পুরানো কথা মনে করালেন আইএসএফ নেতা
কেন এখন তৃণমূল জোট চাইছে, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে নওশাদ অতীতের কথা টেনে আনেন। তিনি বলেন, “যখন আমরা প্রতিবাদের সময় সবাইকে এক হওয়ার ডাক দিয়েছিলাম, তখন উনি গুরুত্ব দেননি। আজ নিজের পিঠ বাঁচাতে কেন আলোচনার কথা বলছেন, সেটা বাংলার মানুষ বোঝে।”
তৃণমূলের অন্দরেও এখন ৮০টি আসনের মধ্যে কোনটি ছেড়ে মমতাকে প্রার্থী করা হবে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। তার মাঝেই নওশাদের এই আক্রমণ শাসক দলের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিল। বাম-কংগ্রেস আগেই না বলে দিয়েছে, এ বার নওশাদের কড়া অবস্থানে মহাজোটের সম্ভাবনা একপ্রকার হিমঘরেই চলে গেল।