তিলজলায় আগুনের পরেই রণমূর্তি অগ্নিমিত্রা! ‘অবৈধ মানেই বুলডোজার’, বড় মাথাদের কি এবার শ্রীঘর যাওয়ার পালা?

তিলজলার অগ্নিকাণ্ডে দুই শ্রমিকের মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই এবার এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে বিস্ফোরক মেজাজে ধরা দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে তিলজলার অবৈধ গুদামে বুলডোজার চালানোর সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে এলাকা দখলকারী ও বেআইনি ব্যবসায়ীদের কার্যত শেষ মুহূর্তের হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন তিনি।

‘অবৈধ নির্মাণের কোনো জায়গা নেই’
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অগ্নিমিত্রা পাল সরাসরি আক্রমণ শানান আগের আমলের গড়ে ওঠা ‘অবৈধ সিন্ডিকেট’ রাজের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, “এতদিন তিলজলায় যা হয়েছে, তা ছিল আইনের তোয়াক্কা না করে এক শ্রেণির মানুষের স্বেচ্ছাচারিতা। কিন্তু নতুন সরকার মানুষের জীবনের দাম বোঝে। যেখানেই অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই বা বেআইনিভাবে কারখানা চালানো হচ্ছে, সেখানেই বুলডোজার চলবে। এটা শুভেন্দু অধিকারীর জিরো টলারেন্স নীতি।”

অফিসারদেরও ছাড় নয়
কেবল ব্যবসায়ীদের নয়, পরোক্ষভাবে প্রশাসনের একাংশকেও সতর্ক করেছেন মন্ত্রী। তাঁর দাবি, পুলিশ ও প্রশাসনের একাংশের মদত ছাড়া কোনোভাবেই ঘিঞ্জি এলাকায় এমন মরণফাঁদ তৈরি হওয়া সম্ভব নয়। অগ্নিমিত্রা স্পষ্ট জানান, “কারা টাকা খেয়ে এই কারখানার অনুমোদন দিয়েছিল বা চোখ বন্ধ করে বসে ছিল, তাদের বিরুদ্ধেও তদন্ত হবে। প্রগতি ময়দান থানার ফায়ার অফিসারের বিরুদ্ধে যে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেটা মাত্র শুরু।”

বুলডোজার অ্যাকশন কি চলবে?
তিলজলায় গুদাম ঘর ভাঙার কাজ নিয়ে জনমানসে যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, সে বিষয়েও মুখ খোলেন তিনি। মন্ত্রীর কথায়, “মানুষের নিরাপত্তা সবকিছুর আগে। বেআইনি বিল্ডিং প্ল্যান ছাড়া ইমারত মানেই তা বিপজ্জনক। আমরা কেবল তিলজলা নয়, সারা রাজ্যের শহরতলিগুলোতে এই ধরণের বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযান চালাব। যাদের বৈধ কাগজপত্র নেই, তারা নিজেরাই সতর্ক হয়ে যান।”

আশ্বাসের সুরও শোনা গেল
তবে সাধারণ শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিয়ে কিছুটা আশ্বস্ত করেছেন মন্ত্রী। তিনি জানান, সরকার কাজ বন্ধ করার পক্ষে নয়, কিন্তু তা হতে হবে আইন মেনে। যারা নিয়ম মেনে ব্যবসা করতে চান, সরকার তাঁদের সবরকম সহযোগিতা করবে। কিন্তু তিলজলার মতো যে ‘মৃত্যুকূপ’গুলি শহরের আনাচে-কানাচে লুকিয়ে আছে, সেগুলিকে সমূলে উৎখাত করতে নবান্ন যে একচুলও জমি ছাড়বে না, তা আজ অগ্নিমিত্রার শরীরী ভাষা এবং মন্তব্যে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।

সব মিলিয়ে তিলজলার অগ্নিকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজ্যে যে ‘বুলডোজার রাজনীতি’র সূচনা হলো, তা আগামী দিনে কোন পর্যায়ে পৌঁছায়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।