৮ বছরের খরা কাটিয়ে চীনে ট্রাম্প! শি জিনপিংয়ের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কি বদলে যাবে বিশ্ব মানচিত্র?

দীর্ঘ আট বছরের প্রতীক্ষার অবসান। বিশ্ব রাজনীতির দুই মহাশক্তি এবার মুখোমুখি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার বেইজিংয়ে পা রেখেছেন এক ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় সফরে। ২০১৭ সালের পর এই প্রথম কোনো ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট চীন সফর করছেন, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক শোরগোল।
কেন এই সফর নিয়ে এত উত্তেজনা?
ট্রাম্পের এই বেইজিং সফরের টাইমিং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার জন্য চীনকে রাজি করানোর চেষ্টা করছিল ওয়াশিংটন। সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরই সরাসরি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নিলেন ট্রাম্প।
ট্রুথ সোশ্যাল-এ ট্রাম্পের ‘ম্যাজিক’ বার্তা
চীন পৌঁছানোর আগেই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি বিস্ফোরক পোস্ট করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প লিখেছেন, “আমি অসাধারণ প্রতিভাবান প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে চীনকে পুরোপুরি ‘উন্মুক্ত’ করার জন্য অনুরোধ করব। আমি চাই এই প্রতিভাবান মানুষগুলো তাদের জাদু দেখাক এবং চীনকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাক।”
তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, জিনপিংয়ের সঙ্গে দেখা হওয়ার প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি এই বড় প্রস্তাবটি টেবিলের ওপর রাখবেন। ট্রাম্পের মতে, দুই দেশের উন্নতির জন্য এর চেয়ে ভালো ধারণা আর হতে পারে না।
টেবিলে থাকছে ইরান ও তাইওয়ান সংকট
হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই সফরের প্রধান এজেন্ডা হতে চলেছে ‘ইরান যুদ্ধ’। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে ইরান তাদের উৎপাদিত তেলের সিংহভাগই চীনের কাছে বিক্রি করে। ফলে তেহরানকে চাপে ফেলতে বেইজিংয়ের সাহায্য ট্রাম্পের জন্য এখন অপরিহার্য।
পাশাপাশি, তাইওয়ানের কাছে আমেরিকার অস্ত্র বিক্রি এবং চীন-মার্কিন বাণিজ্য যুদ্ধের জট ছাড়ানো নিয়েও দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্ব শান্তির দিকে নজর
শুধুমাত্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, বিশ্ব শান্তি ও উন্নয়নের স্বার্থে দুই দেশের বাণিজ্যিক ভারসাম্য বজায় রাখা এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য। ২০১৭ সালের পর ট্রাম্পের এই দ্বিতীয় চীন সফর বিশ্ব অর্থনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ড্রাগনের দেশে ট্রাম্পের এই ‘ম্যাজিক’ কূটনীতি কতটা সফল হয়, এখন নজর সেদিকেই।
ডেইলিয়ান্টের পাঠকদের জন্য এই সফরের প্রতি মুহূর্তের আপডেট পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।