মোবাইল-কোচিং ছাড়াই কেল্লাফতে! সিবিএসই-তে বাজিমাত গুনার মেয়েদের, সাফল্যের সিক্রেট জানলে অবাক হবেন

বর্তমান যুগে যেখানে কোচিং সেন্টার আর সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়া ছাত্রছাত্রীদের এক মুহূর্ত চলে না, সেখানে সম্পূর্ণ বিপরীত পথে হেঁটে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে গেল মধ্যপ্রদেশের গুনা জেলার একঝাঁক মেধাবী মুখ। সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণির ফলাফল প্রকাশিত হতেই দেখা গেল, কোনো ব্যয়বহুল গাইডেন্স বা ২৪ ঘণ্টা বই মুখে বসে থাকা নয়, বরং নিয়মানুবর্তিতা আর আত্মবিশ্বাসই বদলে দিয়েছে গুনার ছাত্রীদের ভাগ্য।
কোচিং ছাড়াই জেলা সেরা অনুষ্কা
শান্তি পাবলিক হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের ছাত্রী অনুষ্কা যোগী বাণিজ্য (Commerce) বিভাগে ৯৭.৬ শতাংশ নম্বর পেয়ে জেলায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। তাঁর এই সাফল্যে সবথেকে বিস্ময়কর বিষয় হলো, অনুষ্কা কোনো নামী কোচিং সেন্টারের ওপর নির্ভর করেননি। তাঁর বাবা নানখেড়ি মান্ডির একজন সাধারণ শস্য ব্যবসায়ী। অনুষ্কা জানিয়েছেন, তিনি দিনে মাত্র তিন থেকে চার ঘণ্টা পড়তেন। তবে সেই সময়টুকুতে থাকতো গভীর মনোযোগ। ইংরেজি, অর্থনীতি ও হিসাববিজ্ঞানে ৯৯ নম্বর পাওয়া এই মেধাবীর মূল অস্ত্র ছিল সারা বছরের নিয়মিত ‘সেলফ স্টাডি’।
স্মার্টফোন থেকে দূরত্বই কি সাফল্যের চাবিকাঠি?
সাফল্যের রহস্য ফাঁস করতে গিয়ে অনুষ্কা বলেন, “ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়ার প্রয়োজন নেই, যা পড়বে তা বুঝে পড়া জরুরি।” তবে একটি বিষয়ে তিনি ছিলেন অনড়— সোশ্যাল মিডিয়া এবং মোবাইল ফোন থেকে দূরত্ব। পরীক্ষার সময় কোনো মানসিক চাপ না নিয়ে স্রেফ নিজের তৈরি করা রুটিন মেনে চলেছেন তিনি। তাঁর মা মমতা যোগীর মতে, অনুষ্কা লক্ষ্য সম্পর্কে এতটাই স্পষ্ট ছিল যে তাঁকে কখনো পড়ার জন্য জোর করতে হয়নি।
পিছিয়ে নেই দিভি ও শিবানীরাও
জেলার মুখ উজ্জ্বল করেছেন বন্দনা কনভেন্ট স্কুলের দিভি জৈনও। ৯৭ শতাংশ নম্বর পেয়ে তিনি নিজের কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। দিভির মতে, ফলাফলের চেয়েও শেখার প্রক্রিয়াটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, এসএল মেমোরিয়াল স্কুলের শিবানী যাদব কলা (Arts) বিভাগে ৯৫.৪ শতাংশ নম্বর পেয়ে প্রথম হয়েছেন। এই প্রতিটি সাফল্যের নেপথ্যেই রয়েছে নিয়মিত পাঠাভ্যাস এবং শিক্ষকদের সঠিক দিকনির্দেশনা।
অভিভাবকদের গর্বের মুহূর্ত
সন্তানদের এই অভাবনীয় সাফল্যে আবেগাপ্লুত অভিভাবকরা। মমতা যোগী বলেন, “কঠোর পরিশ্রমের ফল সবসময়ই মিষ্টি হয়। আমাদের মেয়ে কখনো চাপের মুখে পড়েনি, নিজের পরিকল্পনা মতোই সাফল্য ছিনিয়ে এনেছে।” স্কুলের অধ্যক্ষ ও শিক্ষকরা জানিয়েছেন, এই ফলাফল জেলার অন্যান্য পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীদের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়াবে।
কোচিং সংস্কৃতির ভিড়ে গুনার এই কন্যারা প্রমাণ করে দিলেন, মেধা আর একাগ্রতা থাকলে যেকোনো বাধাই জয় করা সম্ভব। আজকের এই ডিজিটাল যুগে মোবাইল ফোনকে দূরে সরিয়ে রেখে কীভাবে শীর্ষে পৌঁছানো যায়, অনুষ্কা ও দিভিরা যেন তারই এক জীবন্ত উদাহরণ।