মাদকের ব্লু-প্রিন্ট কি এবার ফাঁস? আজারবাইজান থেকে কুখ্যাত ডনকে ছোঁ মেরে আনল সিবিআই!

আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মোক্ষম চাল দিল ভারত। সিবিআই (CBI), পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং দিল্লি পুলিশের এক যৌথ ঝটিকা অভিযানে আজারবাইজান থেকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হলো কুখ্যাত পলাতক আসামি প্রভদীপ সিংকে। বুধবার ভারতের মাটিতে পা রাখা এই মাদক মাফিয়ার প্রত্যর্পণকে দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জন্য বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মাদক সিন্ডিকেটের মূল পান্ডা
পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, প্রভদীপ সিং দিল্লির স্পেশাল সেল থানায় নথিভুক্ত হওয়া একটি বড়সড় মাদক পাচার মামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী। ১৯৮৫ সালের এনডিপিএস (NDPS) আইনের অধীনে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিপুল পরিমাণ মাদক ছড়িয়ে দেওয়ার পেছনে এই ব্যক্তির হাত ছিল বলে দাবি গোয়েন্দাদের। ইতিপূর্বে এই চক্রের বেশ কয়েকজন সহযোগীকে গ্রেফতার করা হলেও প্রভদীপ অধরাই ছিলেন।
আজারবাইজান থেকে খাঁচাবন্দি
পলাতক প্রভদীপকে ধরতে দিল্লি পুলিশের বিশেষ অনুরোধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করে সিবিআই। এরপরই আজারবাইজানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে এবং তাঁকে গ্রেফতার করে। ভারতের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রত্যর্পণের আবেদন জানানো হয়। সমস্ত আইনি জট কাটিয়ে দিল্লি পুলিশের তিন সদস্যের একটি বিশেষ দল আজারবাইজানের রাজধানী বাকু-তে গিয়ে অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং বুধবার তাকে দিল্লিতে নিয়ে আসা হয়।
সাফল্যের নয়া রেকর্ড ভারতের
সিবিআই জানিয়েছে, বিগত কয়েক বছরে ভারতের বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে ১৬০ জনেরও বেশি পলাতক অপরাধীকে বিদেশ থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ইন্টারপোল চ্যানেল এবং ‘ভারতপোল’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্তরে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে ভারতের এই নিবিড় সমন্বয় বর্তমানে অপরাধীদের জন্য পালানোর রাস্তা বন্ধ করে দিচ্ছে।
প্রভদীপ সিংকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই মাদক পাচার চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, তার পর্দাফাঁস হবে বলে আশা করছেন তদন্তকারীরা।