পেট্রল-ডিজেল নিয়ে বাড়ছে দুশ্চিন্তা, ‘ফুল ট্যাঙ্ক’ করতে গেলেই ফিরিয়ে দিচ্ছে পাম্প কর্তৃপক্ষ!

দেশে কি তবে গভীর জ্বালানি সংকট ঘনিয়ে আসছে? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাম্প্রতিক সতর্কবার্তা এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পেট্রল পাম্পগুলোর বাস্তব চিত্র কিন্তু সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া করছে। একদিকে প্রধানমন্ত্রী জনগণকে পেট্রল-ডিজেলের ব্যবহারে রাশ টানার পরামর্শ দিয়েছেন, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা বলছে—পাম্পগুলোতে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে ‘অলিখিত’ নিয়ন্ত্রণ।

কী ঘটছে পেট্রল পাম্পগুলিতে?
পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক পেট্রল পাম্পে এখন চাইলেই মিলছে না প্রয়োজনমতো তেল। ঘাটাল, চন্দ্রকোণা বা দাসপুরের মতো এলাকায় পাম্প মালিকরা গাড়ি বা বাইকে ‘ফুল ট্যাঙ্ক’ তেল দিতে অস্বীকার করছেন। অনেক ক্ষেত্রে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার বেশি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো লিখিত নির্দেশিকা আসেনি, তবুও ডিলারদের এই আচরণে সাধারণ মানুষের মনে দানা বাঁধছে আশঙ্কা—তবে কি দাম বাড়তে চলেছে জ্বালানির?

লোকসানের বহর ও মন্ত্রীর বয়ান:
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর একটি পোস্ট। তিনি জানিয়েছেন, তেল বিপণন সংস্থাগুলি বর্তমানে দৈনিক ১,০০০ কোটি টাকারও বেশি লোকসানে জ্বালানি বিক্রি করছে। এর ফলে সংস্থাগুলির আর্থিক ভিত নড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই বিপুল লোকসান সামাল দিতেই কি তবে তেলের জোগানে রাশ টানা হচ্ছে? প্রশ্ন উঠছে জনমানসে।

ইন্ডিয়ান অয়েল ডিলার্স ফোরাম-এর প্রেসিডেন্ট জন মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বর্তমানে কলকারখানাগুলোর জন্য তেলের ‘বাল্ক বিক্রির’ ওপর অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কারখানাগুলোর জন্য তেলের দাম খুচরো দামের চেয়ে লিটারে প্রায় ৫০-৬০ টাকা বেশি। তাই কারখানাগুলো যাতে পাম্প থেকে সস্তায় তেল মজুত করতে না পারে, সেজন্যই একলপ্তে ২০০ লিটারের বেশি তেল বিক্রিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

তেল ও গ্যাসের ভাঁড়ার কি শূন্য?
এত সব আশঙ্কার মাঝেও অবশ্য অভয়বাণী শুনিয়েছেন হরদীপ সিং পুরী। বণিকসভা সিআইআই-এর বার্ষিক সভায় তিনি দাবি করেন, দেশে বর্তমানে যা অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি মজুত রয়েছে, তাতে আগামী দু’মাস নিশ্চিন্তে দেশ চালানো সম্ভব। এমনকি রান্নার গ্যাসের (LPG) ক্ষেত্রেও দেশে ৪৫ দিনের মজুত ভাণ্ডার রয়েছে। মন্ত্রীর দাবি, যুদ্ধের আগের তুলনায় এলপিজির ঘরোয়া উৎপাদন দৈনিক ৩৫ হাজার মেট্রিক টন থেকে বাড়িয়ে ৫৪ হাজার মেট্রিক টন করা হয়েছে, ফলে আমদানির ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমেছে।

কেন এই সতর্কতা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে যাতে হুড়োহুড়ি করে তেল কেনার হিড়িক বা ‘প্যানিক বাইং’ শুরু না হয়, সেই কারণেই সরকার আগেভাগে সতর্ক হচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রী যখন খোদ ‘কোভিড কালের মতো’ নিয়ন্ত্রণের কথা বলছেন, তখন সাধারণ মানুষের মনে এলপিজি সিলিন্ডার এবং পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়ার ভয় থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। আগামী কয়েক দিনে কেন্দ্র নতুন কোনো নির্দেশিকা জারি করে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।