ইম্পা অফিসে হুলুস্থুল! পিয়া সেনগুপ্তর বিরুদ্ধে ফাইল চুরির অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাহারায় কি সিল হচ্ছে টলিপাড়ার সদর দপ্তর?

বাংলার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আঁচ এবার টলিপাড়ার অন্দরে। ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স অ্যাসোসিয়েশন বা ‘ইম্পা’ (EIMPA) এখন কার্যত রণক্ষেত্র। বিদায়ী শাসকদলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সভানেত্রী পিয়া সেনগুপ্তর পদত্যাগ এবং ইম্পাকে ‘রাজনৈতিক রংমুক্ত’ করার দাবিতে গত তিন দিন ধরে উত্তাল বৌবাজার এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ তো বটেই, মোতায়েন করতে হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও।
গঙ্গাজল ছিটিয়ে শুদ্ধিকরণ ও গেরুয়া আবির
রাজ্যে সরকার বদলের দিনই ইম্পা অফিসে এক নজিরবিহীন দৃশ্য দেখা যায়। প্রযোজক ও পরিবেশকদের একাংশ অফিসে ঢুকে প্রতিটি ঘরে গঙ্গাজল ছিটিয়ে ‘শুদ্ধিকরণ’ করেন। এরপর চলে গেরুয়া আবির খেলা। তাঁদের দাবি, বিগত দিনে ইম্পা রাজনৈতিক আখড়ায় পরিণত হয়েছিল, যা থেকে মুক্ত হওয়া জরুরি।
থানা-পুলিশ ও ফাইল চুরির আতঙ্ক
মঙ্গলবার থেকে সংঘাত চরমে পৌঁছায়। পরিবেশক শতদীপ সাহা ও তাঁর অনুগামীদের দাবি, পিয়া সেনগুপ্তর বর্তমান কমিটি ‘নির্বাচিত’ নয়। পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে পিয়া বলেন, “আগে প্রমাণ করে দেখাক।” দুপক্ষের বাদানুবাদ গড়ায় বৌবাজার থানায়। প্রযোজকদের অভিযোগ, পিয়া সেনগুপ্ত রাতের অন্ধকারে অফিসের জরুরি নথি ও ফাইল সরিয়ে ফেলতে পারেন। সেই আশঙ্কায় অফিস ‘সিল’ করার আবেদন জানিয়ে এফআইআর (FIR) দায়ের করেন তাঁরা। পালটা জিডি (GD) করেন পিয়াও। তাঁর দাবি, ইম্পা অফিসে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
মাঠে নামল কেন্দ্রীয় বাহিনী, জারি ১৪৪ ধারা
বুধবার পরিস্থিতি সামলাতে বৌবাজার থানার বিশাল পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে ইম্পা অফিসে পৌঁছায় কেন্দ্রীয় বাহিনী। এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। অভিনেতা বনি সেনগুপ্ত তাঁর মা পিয়ার পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, “মায়ের দিকে যেভাবে আক্রমণাত্মক ভাবে তেড়ে আসা হয়েছে, তা কাম্য নয়। সেই কারণেই জিডি করা হয়েছিল।” যদিও দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর পুলিশের মধ্যস্থতায় সাময়িকভাবে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
মুক্ত হচ্ছে টলিপাড়া? ইম্পার বড় ঘোষণা
তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই ইম্পার পক্ষ থেকে ঋতব্রত ভট্টাচার্য এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন। তিনি জানান, এবার থেকে কোনো প্রযোজক তাঁর পছন্দমতো ক্যামেরাম্যান বা টেকনিশিয়ান নিয়ে কাজ করতে পারবেন; ইম্পা সেখানে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। অর্থাৎ, টলিপাড়ার দীর্ঘদিনের ‘ব্যান’ বা ‘থ্রেট কালচার’ বন্ধ করার ইঙ্গিত মিলেছে।
আগামী ৮ মে দুই পক্ষ বৈঠকে বসতে চলেছে। পরিবেশক শতদীপ সাহার সাফ কথা, “আমরা স্বচ্ছ ভোটাভুটি ও নতুন কমিটি চাই। কোনও রাজনৈতিক রং থাকবে না, সবাই সমানভাবে কাজ করবে।” এখন দেখার, ৮ তারিখের বৈঠকে ইম্পার এই অচলাবস্থা কাটে কিনা।