“বাংলার পর এবার পাঞ্জাব?” জোড়া বিস্ফোরণ নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দাবি মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের!

পাঞ্জাবের সাম্প্রতিক জোড়া বিস্ফোরণ ঘিরে ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে জাতীয় রাজনীতি। এবার এই ইস্যুতে সরাসরি বিজেপিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী তথা আম আদমি পার্টির নেতা ভগবন্ত মান। তাঁর সাফ দাবি, বাংলার পর এবার পাঞ্জাবে হিংসা ছড়িয়ে ভোট বৈতরণী পার হতে চাইছে পদ্ম শিবির।
“বিস্ফোরণ কি বিজেপির নির্বাচনী প্রস্তুতি?”
মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান এক কড়া বিবৃতিতে বলেন, বিজেপি দাবি করেছে বাংলার পর এবার পাঞ্জাবের পালা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই বিস্ফোরণগুলো কি আসলে বিজেপির আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি? মানের অভিযোগ, বিজেপি যেখানেই যায় সেখানেই সহিংসতা ও ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ভোট জোগাড়ের চেষ্টা করে। দাঙ্গা উস্কে দেওয়া এবং মানুষকে ধর্মের ভিত্তিতে বিভক্ত করাই তাদের কাজ।
পাঞ্জাবের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার আবেদন জানিয়ে মান বলেন, “পাঞ্জাব একটি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ রাজ্য। যেখানে সকাল-সন্ধ্যা লক্ষ লক্ষ লাউডস্পিকারে গুরবানি পাঠ করা হয়। দয়া করে আমাদের সাথে এমন নোংরা রাজনীতি করবেন না।”
ধর্ম অবমাননা আইন ও বিজেপির ক্ষোভ
পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মনে করেন, তাঁর সরকারের প্রণীত কঠোর ‘ধর্ম অবমাননা আইন’ বিজেপির রাজনৈতিক এজেন্ডায় জল ঢেলে দিয়েছে। আগে ধর্ম অবমাননার মাধ্যমে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে লড়াই লাগিয়ে ফায়দা তোলা যেত। কিন্তু এখন কঠোর শাস্তির বিধান থাকায় কেউ আর সহজে এই সাহস করবে না। মান সরাসরি বিজেপিকে তোপ দেগে বলেন, “আপনারা কি ছোটখাটো বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আর মানুষকে ভয় দেখিয়ে ভোট পাওয়ার চেষ্টা করছেন? মনে রাখবেন, পাঞ্জাব অনেক অন্ধকার দিন দেখেছে, মানুষের ক্ষত এখনও তাজা।”
“পাঞ্জাব মাথা নত করবে না”
মান স্মরণ করিয়ে দেন যে, খাদ্য সংকট হোক বা দেশের সীমান্তে শত্রুর গুলি—পাঞ্জাব সবসময় বুক চিতিয়ে লড়াই করেছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, দোষীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে এবং পাঞ্জাবিরা আর কোনো অশান্তি সহ্য করবে না। তাঁর কথায়, “আমরা শান্তিকামী মানুষ, আমরা সারা বিশ্বের মঙ্গলের জন্য প্রার্থনা করি।”
বাংলার ভোট লুঠ নিয়ে কমিশনকে প্রশ্ন
পাঞ্জাবের পাশাপাশি বাংলার ভোট পরিস্থিতি নিয়েও সরব হয়েছেন ভগবন্ত মান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরেই তিনি বলেন, বাংলায় প্রায় ১০০টি আসনে জনরায় চুরি করা হয়েছে। তৃণমূলের এজেন্টদের বসতে দেওয়া হয়নি, মারধর করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলেছেন মান। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশনকে কোনো নির্দিষ্ট দলের হয়ে কাজ করলে চলবে না। পরিস্থিতি স্পষ্ট করা এবং সব দলের কাছে সমান হওয়াটাই কমিশনের একমাত্র কাজ হওয়া উচিত।