সাবধান! স্বাস্থ্যকর ভেবে যা খাচ্ছেন তা-ই কি শরীরের বারোটা বাজাচ্ছে? আসল সত্যিটা জানুন

আজকাল ফিটনেস সচেতন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। সুস্থ থাকতে অনেকেই এখন বাজারের তথাকথিত ‘হেলদি’ বা ‘ডায়েট-ফ্রেন্ডলি’ খাবারের দিকে ঝুঁকছেন। কিন্তু আপনি কি জানেন, স্বাস্থ্যকর এবং চিনিমুক্ত হিসেবে প্রচার করা এসব পণ্যের প্যাকেজিং এবং বিজ্ঞাপনের আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে বড় বিপদ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে এই দাবিগুলো সম্পূর্ণ সঠিক হয় না। বিজ্ঞাপনী চমকে ভুলিয়ে সাধারণ মানুষের হাতে এমন সব পণ্য তুলে দেওয়া হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।

খাবারের প্যাকেটে লুকিয়ে থাকা ‘বিষ’
জনপ্রিয় শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ এবং অস্বাস্থ্যকর পণ্যের বিরুদ্ধে প্রচার চালানো সমাজকর্মী ডাঃ অরুণ গুপ্ত এ বিষয়ে একটি বড় সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, বাজারে ফ্লেভারড দই, প্যাকেটজাত জুস, এনার্জি বার এবং ডায়েট স্ন্যাকসকে স্বাস্থ্যকর বলে চালানো হলেও এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে চিনি, কার্বোহাইড্রেট এবং অস্বাস্থ্যকর চর্বি থাকে।

এমনকি অনেকের প্রিয় ‘ইনস্ট্যান্ট ওটস’ সম্পর্কেও তিনি চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। ডাঃ অরুণের মতে, অনেক কোম্পানির ইনস্ট্যান্ট ওটসে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত চিনি থাকে। যা শরীরে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়িয়ে দেয়। ফলে ওজন কমার বদলে স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

বিজ্ঞাপনের আড়ালে যা থাকে
বাজারে এমন অনেক পণ্য আছে যা ‘লো ফ্যাট’ বা ‘চিনিমুক্ত’ বলে বিক্রি হয়। কিন্তু স্বাদ ঠিক রাখতে এগুলোতে অতিরিক্ত লবণ, অস্বাস্থ্যকর প্রিজারভেটিভ এবং কৃত্রিম মিষ্টি ব্যবহার করা হয়। অনেকেই লেবেল না পড়েই কেবল ‘ডায়েট’ শব্দটি দেখে এগুলো কেনেন, যা শরীরের জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে।

কেনার আগে যা খেয়াল রাখবেন
প্যাকেটজাত খাবার পুরোপুরি এড়িয়ে চলা কঠিন হলেও, কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি:

লেবেল পড়ুন: যেকোনো পণ্য কেনার আগে তার পেছনে থাকা নিউট্রিশন লেবেলটি অবশ্যই দেখুন। সেখানে চিনি, লবণ এবং ক্যালোরির পরিমাণ কত তা যাচাই করুন।

উপাদান দেখুন: প্রিজারভেটিভ এবং কৃত্রিম উপাদানের তালিকা লম্বা হলে সেই পণ্য এড়িয়ে চলাই ভালো।

মেয়াদ যাচাই: উৎপাদনের তারিখ এবং মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ভালোভাবে দেখে নিন।

ঘরে তৈরি খাবারের বিকল্প নেই
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্যাকেটজাত খাবারের চেয়ে বাড়িতে তৈরি টাটকা খাবার সবসময়ই বেশি নিরাপদ। বাড়িতে রান্না করলে তেল, নুন ও চিনির পরিমাণের ওপর আপনার নিয়ন্ত্রণ থাকে এবং কোনো ক্ষতিকারক প্রিজারভেটিভ ব্যবহার হয় না। সুস্থ থাকতে তাই প্রক্রিয়াজাত খাবারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে প্রাকৃতিক ও ঘরোয়া খাবারের দিকে নজর দেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।