সাবধান! শিশুর ঠোঁট বা নখ কি নীলচে দেখাচ্ছে? মারণ রোগ ‘ব্লু বেবি সিনড্রোম’ নয় তো?

বাড়িতে নতুন অতিথি আসার আনন্দ সবার মনে। কিন্তু সেই খুশির মাঝেই যদি দেখেন ছোট্ট সোনামণির ঠোঁট, জিভ বা আঙুলের ডগা কেমন যেন নীলচে বা বেগুনি হয়ে যাচ্ছে, তবে সাবধান! অনেকেই একে সাধারণ ঠান্ডা লাগা ভেবে ভুল করেন। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় এটি হতে পারে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ‘ব্লু বেবি সিনড্রোম’। সঠিক সময়ে ব্যবস্থা না নিলে এটি শিশুর প্রাণের ঝুঁকি পর্যন্ত তৈরি করতে পারে।
ব্লু বেবি সিনড্রোম আসলে কী?
সহজ ভাষায় একে বলা হয় ‘সায়ানোসিস’। আমাদের শরীরের রক্তে যখন অক্সিজেনের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়, তখন ত্বক ও মিউকাস মেমব্রেন নীলচে দেখাতে শুরু করে। নবজাতকদের ক্ষেত্রে এর প্রধান কারণ হলো জন্মগত হৃদরোগ বা Congenital Heart Disease (CHD)। হার্টের গঠনগত ত্রুটির কারণে শরীরে বিশুদ্ধ অক্সিজেনের বদলে দূষিত রক্ত চলাচল শুরু করলে এই উপসর্গ দেখা দেয়।
যে ৫টি সংকেত দেখলে এক মুহূর্ত দেরি করবেন না:
-
ঠোঁট ও জিভের রং পরিবর্তন: যদি দেখেন বাচ্চার ঠোঁট, জিভ, মাড়ি বা নখের ডগা নীলচে হয়ে যাচ্ছে এবং কাঁদলে বা খাওয়ার সময় সেই রং আরও গাঢ় হচ্ছে, তবে বুঝবেন এটি ‘সেন্ট্রাল সায়ানোসিস’। এটি হার্টের গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত।
-
শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানো: দুধ খাওয়ার সময় শিশু যদি দ্রুত হাঁপিয়ে যায় এবং বারবার মুখ ছেড়ে দেয়, তবে সতর্ক হোন। শ্বাসের গতি মিনিটে ৬০ বারের বেশি হলে বা বুকের পাঁজর বসে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
-
ওজন না বাড়া ও চরম দুর্বলতা: হার্টের সমস্যা থাকলে শিশু শ্বাস নিতেই অনেক ক্যালরি খরচ করে ফেলে। ফলে বাচ্চার ওজন বাড়ে না এবং সে সব সময় ঝিমিয়ে থাকে।
-
অতিরিক্ত ঘাম: বিশেষ করে মাথা ও কপালে। খাওয়ার সময় বা ঘুমের মধ্যে বিনা কারণে ঘেমে যাওয়া হার্টের ওপর অতিরিক্ত চাপের লক্ষণ।
-
‘টেট স্পেল’ বা হঠাৎ নীল হওয়া: কাঁদতে কাঁদতে বাচ্চা যদি হঠাৎ গাঢ় নীল হয়ে শরীর ছেড়ে দেয় বা জ্ঞান হারায়, তবে এটি মেডিকেল ইমার্জেন্সি।
তৎক্ষণাৎ কী করবেন?
এই ধরণের লক্ষণ দেখা দিলে এক মিনিটও সময় নষ্ট করবেন না। প্রাথমিকভাবে শিশুকে ‘নি-টু-চেস্ট’ (Knee-to-chest) পজিশনে রাখুন— অর্থাৎ বাচ্চার হাঁটু ভাঁজ করে বুকের কাছে আনুন। এতে ফুসফুসে রক্ত চলাচল কিছুটা বাড়ে। এরপর দ্রুত কোনো পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজিস্টের কাছে যান। ইকোকার্ডিওগ্রাফি করালে হার্টের কোনো ত্রুটি আছে কি না তা সহজেই ধরা পড়বে।
পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি ১০০০ শিশুর মধ্যে অন্তত ৮-৯ জন জন্মগত হৃদরোগ নিয়ে জন্মায়। তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই; সময়মতো রোগ ধরা পড়লে আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে ৯০ শতাংশ শিশুকে সম্পূর্ণ সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হোন।