“ট্রাম্পের কোর্টে বল পাঠাল ইরান!”-১৪ দফার শান্তি প্রস্তাব কি যুদ্ধের দামামা থামাবে?

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত রাজনীতিতে এবার পারদ চড়ল কয়েক গুণ। ইরানের পাঠানো নতুন ১৪ দফা শান্তি প্রস্তাবের ওপর কার্যত জল ঢেলে দিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের এই প্রস্তাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে ইঙ্গিত দেওয়ার পাশাপাশি ট্রাম্প সাফ জানিয়েছেন, ইরান এখনও তাদের কৃতকর্মের উপযুক্ত মূল্য পরিশোধ করেনি। পাল্টাচাল হিসেবে তেহরানও হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে— ‘বল এখন আমেরিকার কোর্টে।’
শান্তি নাকি সংঘাত? তেহরানের বার্তা স্থায়ী যুদ্ধবিরতির লক্ষ্য নিয়ে ওয়াশিংটনে ১৪ দফার একটি বিস্তারিত প্রস্তাব পাঠিয়েছিল ইরান। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের মনোভাব দেখে ইরানের উপ-বিদেশমন্ত্রী কাজ়েম ঘারিবাবাদি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাঁরা যে কোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। তাঁর কথায়, “আমেরিকা ঠিক করুক তারা কূটনৈতিক পথে সমাধান চায় নাকি সংঘাত। ইরান মাথা নত করবে না।”
ট্রাম্পের কড়া আক্রমণ: ‘নেতা কে ওরাই জানে না’ শনিবার দক্ষিণ ফ্লোরিডায় এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রীতিমতো আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দেন ট্রাম্প। ইরানের নেতৃত্বের সংকট নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “তারা একটি চুক্তি করতে চায় কারণ তারা এখন বিধ্বস্ত। আসলে তারা জানে না তাদের নেতা কে, কারণ তাদের নেতা আর বেঁচে নেই।”
ট্রুথ সোশ্যালে চরম হুঁশিয়ারি পরবর্তীতে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি পোস্টে ট্রাম্প আরও কঠোর অবস্থান নেন। তিনি লেখেন, “ইরান যে পরিকল্পনা পাঠিয়েছে আমি তা পর্যালোচনা করব, কিন্তু মনে হয় না এটি গ্রহণযোগ্য হবে। গত ৪৭ বছরে মানবতার প্রতি তারা যা করেছে, তার জন্য যথেষ্ট মূল্য দেয়নি।” শুধু তাই নয়, ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে আমেরিকার মূল লক্ষ্য এখন ইরানের অবশিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি ‘নির্মূল’ করা। প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপের পথও যে খোলা রয়েছে, সেই হুঁশিয়ারি দিতেও ছাড়েননি তিনি।
এখন প্রশ্ন উঠছে, ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থানের পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে? কূটনৈতিক টেবিল নাকি যুদ্ধের ময়দান— বিশ্ব রাজনীতির নজর এখন হোয়াইট হাউসের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।