সীমান্তে সেনার আগে গুলি বুক পেতে নেয় লাদাখিরাই! কারগিলে দাঁড়িয়ে দেশপ্রেমের নয়া সংজ্ঞা লিখলেন অমিত শাহ

ভারতের মানচিত্রে লাদাখ কেবল একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল বা দুর্গম পাহাড় ঘেরা ভূখণ্ড নয়, বরং এটি দেশের সুরক্ষাকবচ। শুক্রবার লাদাখ সফরে গিয়ে এই ভাষাতেই স্থানীয়দের দেশপ্রেমকে কুর্নিশ জানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। লেহ ও কারগিলের বাসিন্দাদের সাহসিকতার প্রশংসা করে তিনি সাফ জানান, যখনই দেশ সংকটে পড়েছে, সেনাবাহিনী পৌঁছানোর আগেই লাদাখের মানুষ বুক পেতে শত্রুর গুলি সহ্য করেছে।

সীমান্ত সুরক্ষায় লাদাখই ঢাল দুই দিনের লাদাখ সফরে এসে শাহ বলেন, “লেহ, লাদাখ এবং কারগিলের মানুষের দেশপ্রেমের তুলনা হয় না। ভারতের অখণ্ডতা বজায় রাখতে তাঁদের অঙ্গীকার আজ সারা বিশ্বে পরিচিত। যখনই সীমান্ত থেকে কোনো হুমকি এসেছে, এ দেশের সেনাবাহিনী আসার আগে লাদাখের সাধারণ মানুষ সবার আগে রুখে দাঁড়িয়েছেন।” ভারতের প্রতিটি নাগরিক লাদাখিদের এই আত্মত্যাগের কাছে ঋণী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নারীদের জন্য ‘শ্বেত বিপ্লব’ কারগিলে এদিন কারগিলে একটি অত্যাধুনিক দুগ্ধ ও দুধ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলেও এই প্ল্যান্টটি প্রতিদিন ১০,০০০ লিটার দুধ প্রক্রিয়াকরণ করতে পারবে। অমিত শাহের মতে, সমবায় মডেলে নির্মিত এই প্রকল্পটি স্থানীয় অর্থনীতির ভোল বদলে দেবে। বিশেষ করে কারগিলের নারীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, “এই ডেয়ারি প্ল্যান্ট মহিলাদের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ দেবে এবং তাঁদের পরিবারকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলবে।”

৭৫ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে লেহ-তে আয়োজিত পবিত্র নিদর্শন প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে শাহ এক আবেগপূর্ণ বার্তা দেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্যোগে ভগবান বুদ্ধের পবিত্র দেহাবশেষ প্রথমবারের মতো জনসাধারণের দর্শনের জন্য আনা হয়েছে। শাহ বলেন, “এটি গত ৭৫ বছরে এক বিরল সুযোগ। আমি লাদাখের সমস্ত মানুষকে অনুরোধ করব এই সুযোগ কাজে লাগাতে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দলাই লামার কথা অনুযায়ী লাদাখ কেবল একটি ভৌগোলিক ম্যাপ নয়, এটি বৌদ্ধ সংস্কৃতি ও করুণার এক জীবন্ত গবেষণাগার।

শান্তি ও উন্নয়নের বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে, মোদী সরকারের লক্ষ্য হলো সীমান্ত এলাকাগুলিকে সম্পূর্ণ ‘আত্মনির্ভর’ করে তোলা। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত ভারত স্কাউটসের ইতিহাসের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, লাদাখের এই ভূমি থেকে ছড়িয়ে পড়া শান্তির বার্তা হাজার হাজার বছর ধরে ভারতের সভ্যতাকে সমৃদ্ধ করেছে। বর্তমানে এই অঞ্চলে উন্নয়নের যে কর্মযজ্ঞ চলছে, তা ভবিষ্যতে লাদাখকে ভারতের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত করবে।