রাঘব-হরভজনদের দলত্যাগ, পঞ্জাবে সরকার ফেলার ব্লু-প্রিন্ট? মাঝরাতে আস্থা ভোটে মোড় ঘোরানো ফল!

গত কয়েকদিন ধরে চলা তীব্র উৎকণ্ঠা আর রাজনৈতিক ডামাডোলের অবসান হলো। পঞ্জাবে আম আদমি পার্টির দুর্গে বড়সড় ফাটল ধরার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, বিধানসভার আস্থা ভোটে তার মোক্ষম জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ভগবান্ত মান। রাজ্যসভার সাতজন প্রভাবশালী সাংসদ দল ছাড়ার পর যে সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, এ দিনের ভোটাভুটিতে সেই মেঘ অনেকটাই কেটে গেল।

সাংসদদের গণ-দলত্যাগ ও সংকটের সূত্রপাত

পঞ্জাব রাজনীতির এই অস্থিরতার শুরু গত ২৪ এপ্রিল। আম আদমি পার্টির ১০ জন রাজ্যসভা সাংসদের মধ্যে ৭ জন— যাঁদের মধ্যে রাঘব চাড্ডা, সন্দীপ পাঠক এবং প্রাক্তন ক্রিকেটার হরভজন সিংয়ের মতো হেভিওয়েট মুখরা ছিলেন— তাঁরা একযোগে বিজেপিতে যোগ দেন। যেহেতু ১০ জনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশই দল বদলেছেন, তাই তাঁদের ওপর দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর করার পথও বন্ধ হয়ে যায়। এই ঘটনার পরই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, বিধানসভাতেও এবার বড়সড় ভাঙন ধরতে চলেছে।

বিধানসভায় শক্তি পরীক্ষা: গুজব বনাম বাস্তবতা

বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, আপ-এর অন্তত ৪০ থেকে ৬৫ জন বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য পা বাড়িয়ে আছেন। এমন পরিস্থিতিতে নিজের কুর্সি বাঁচাতে বিধানসভায় শক্তি পরীক্ষার চ্যালেঞ্জ নেন মুখ্যমন্ত্রী। ১১৭ আসন বিশিষ্ট পঞ্জাব বিধানসভায় আপ-এর হাতে বর্তমানে ৯৪ জন বিধায়ক রয়েছেন। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরে রয়েছে কংগ্রেসের ১৭ জন, শিরোমনি অকালি দলের ৩ জন, বিজেপি-র ২ জন এবং বিএসপি ও নির্দল মিলিয়ে বাকি আসনগুলো।

‘সব গুজব মিথ্যা’: গর্জে উঠলেন ভগবান্ত মান

আস্থা ভোটে জয়ী হওয়ার পর বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বিরোধীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী ভগবান্ত মান। তিনি সাফ জানান, সরকার ফেলার যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছিল, আজকের ফলাফল তার যোগ্য জবাব। তিনি বলেন, “অনেকেই স্বপ্ন দেখছিলেন আমাদের ৪০-৬৫ জন বিধায়ক দল ছাড়বেন। আজ সেই সমস্ত জল্পনায় ইতি পড়ল। পঞ্জাবের মানুষ আমাদের ওপর যে ভরসা রেখেছেন, তা অটুট রয়েছে।”

সাংসদ স্তরে বড়সড় ভাঙন সামাল দিতে পারলেও, তৃণমূল স্তরের সংগঠনকে এক রাখা এখন ভগবান্ত মানের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। যদিও এ দিনের আস্থা ভোট প্রমাণ করে দিল যে, পঞ্জাবের মসনদে আপাতত নিরাপদেই রয়েছে আম আদমি পার্টি।