“মার্কিন নীতিতে ভরসা নেই”, পরমাণু যুদ্ধের মেঘের মাঝে ইরান কেন ভারতকে বিশেষ অনুরোধ করল? জানুন

পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফিরবে কবে? আন্তর্জাতিক মহলে এই প্রশ্ন যখন ঘুরপাক খাচ্ছে, ঠিক তখনই সরাসরি আমেরিকাকে কড়া হুঁশিয়ারি দিল ইরান। ভারতে নিযুক্ত ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি আব্দুল মজিদ হাকিম এলাহি সাফ জানিয়েছেন, মার্কিন নীতির ওপর আস্থা রাখা অসম্ভব এবং ইরান যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলা করার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। বর্তমান অবস্থাকে তিনি ‘যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়’ বলে অভিহিত করেছেন।

আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ একটি সংবাদ সম্মেলনে হাকিম এলাহি অভিযোগ করেন যে, বছরের পর বছর ধরে পরিকল্পনা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল কয়েক দিনের মধ্যে ইরান সরকারকে উৎখাত করার নীল নকশা তৈরি করেছিল। তিনি দাবি করেন, এই হামলায় শুধুমাত্র সামরিক ঘাঁটি নয়, স্কুল, হাসপাতাল ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো অসামরিক পরিকাঠামোকেও টার্গেট করা হয়েছে। এলাহির মতে, হাজার হাজার সাধারণ মানুষের প্রাণহানি এবং অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি এই যুদ্ধের এক চরম মানবিক মূল্য, যার দায়ভার নিতে হবে আক্রমণকারী দেশগুলোকেই।

হরমুজ প্রণালী ও বিশ্ব বাণিজ্যে প্রভাব হরমুজ প্রণালীতে ইরান কেন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে—বিশ্বের এই প্রশ্নের উত্তরে এলাহি পালটা যুক্তি দেন। তিনি বলেন, ইরান কেন প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন না তুলে, বিশ্বের উচিত তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা যারা এই সংঘাত শুরু করেছে। তাঁর মতে, কোনো একক দেশকে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার নীতি পুনর্বিবেচনা করা উচিত, কারণ এর ফলে সাধারণ নাগরিকরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, আগ্রাসী নীতি বন্ধ হলেই কেবল হরমুজ প্রণালী ও সংলগ্ন সমুদ্রপথে স্থিতিশীলতা ফিরবে।

শান্তি আলোচনার ব্যর্থতা হাকিম এলাহি ব্যাখ্যা করেন যে, ইরান কোনোদিন এই যুদ্ধ চায়নি। ওমান এবং জেনেভায় যখন আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রক্রিয়া ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই আকস্মিক হামলায় সেই প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। তাঁর দাবি, ইরান নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের দাবি প্রত্যাখ্যান করে টানা ৪০ দিন বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করার পরেই প্রতিপক্ষরা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিতে বাধ্য হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আবেদন সংঘাত নিরসনে এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। বিশেষ করে ভারতকে উদ্দেশ্য করে তিনি জানিয়েছেন, বিশ্ব শক্তিগুলো এগিয়ে এলে শুধু আঞ্চলিক নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও শান্তি রক্ষা করা সম্ভব। তবে যতক্ষণ না আমেরিকা তাদের আগ্রাসী মনোভাব ত্যাগ করছে, ততক্ষণ ইরানের সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

সবশেষে এলাহি মনে করিয়ে দেন, মার্কিন প্রশাসনের পদক্ষেপ ও বক্তব্য এখন কেবল ‘মিডিয়া-নির্ভর’। কিন্তু ইরান মাঠের লড়াইয়ে যেকোনো ‘বোকামি’র জবাব দিতে নিজেদের অস্ত্রাগার সাজিয়ে রেখেছে। বর্তমানে এক অদ্ভুত অস্থিরতা বিরাজ করছে মধ্য এশিয়ায়, যেখানে সাময়িক যুদ্ধবিরতি থাকলেও উত্তেজনার পারদ বিন্দুমাত্র কমেনি।