“আমরাই এখন জলদস্যু!”-মাঝসমুদ্রে ইরানের জাহাজ লুঠ করে সগর্বে ঘোষণা ট্রাম্পের, বিশ্বজুড়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের অশান্ত রাজনীতিতে এবার ঘি ঢাললেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রথম দফার শান্তি বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর ইরানের একটি কার্গো জাহাজ বাজেয়াপ্ত করেছে আমেরিকান সেনা। আর সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ট্রাম্পের এক বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে দানা বেঁধেছে নতুন বিতর্ক। ফ্লোরিডার এক জনসভায় দাঁড়িয়ে ট্রাম্প নিজেকে এবং নিজের দেশকে কার্যত ‘জলদস্যু’ বা ‘পাইরেট’ বলে অভিহিত করলেন।
“আমি মজা করছি না”, হুঙ্কার ট্রাম্পের
ফ্লোরিডার জনসভায় ইরানের ওপর আমেরিকার সামরিক অভিযানের বিবরণ দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমরা জাহাজ দখল করছি, তেল তুলে নিচ্ছি। এটা খুব লাভজনক ব্যবসা।” ট্রাম্পের এই কথা শুনে উপস্থিত সমর্থকরা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়লে তিনি হাসতে হাসতে যোগ করেন, “আমরা যেন জলদস্যু। কিছুটা তো বটেই।” পরক্ষণেই গম্ভীর মুখে তিনি জানিয়ে দেন, “আমি কিন্তু মজা করছি না।” তাঁর এই মন্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হতেই আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
মাঝসমুদ্রে কমান্ডো অপারেশন: কীভাবে দখল হলো জাহাজ?
ইরানের দাবি অনুযায়ী, গত ২০ এপ্রিল ‘Touska’ নামে তাদের একটি কার্গো জাহাজ চিন থেকে ফেরার পথে ওমান উপসাগরে আক্রান্ত হয়। আমেরিকান সেনারা প্রথমে জাহাজের ইঞ্জিন রুম লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে সেটি ফুটো করে দেয়। এতে জাহাজের নেভিগেশন সিস্টেম বিকল হয়ে পড়লে মার্কিন কমান্ডোরা জাহাজে উঠে সেটির দখল নেয়। ইরান এই ঘটনাকে ‘জলদস্যুতা’ এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের জ্যান্ত উদাহরণ বলে বর্ণনা করেছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের দাবি, ওই জাহাজটি বেআইনি কাজে লিপ্ত থাকার কারণে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ আগে থেকেই নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছিল। বর্তমানে জাহাজটি এবং তার বিপুল তেলের সম্ভার পুরোপুরি আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে।
হরমুজ় প্রণালীতে অবরোধ: বিশ্ব অর্থনীতিতে আশঙ্কার মেঘ
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ় প্রণালী কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
-
মার্কিন অবরোধ: আমেরিকান প্রতিরক্ষা সচিব পিটার হেগসেথ স্পষ্ট জানিয়েছেন, যতদিন প্রয়োজন হবে ইরানের বন্দরগুলি অবরোধ করে রাখা হবে। ইতিমধ্যে ৪৫টি জাহাজকে পথ ঘুরিয়ে দিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড।
-
ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি: তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, আমেরিকা অবরোধ জারি রাখলে হরমুজ় দিয়ে কোনো দেশের জাহাজই যাতায়াত করতে পারবে না।
ভেস্তে গেল শান্তি বৈঠক, ঘনিয়ে আসছে যুদ্ধ?
কয়েকদিন আগেই ইরানের পাঠানো শান্তি প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন ট্রাম্প। দ্বিতীয় দফার বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পরই ইজ়রায়েলে বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র পাঠিয়েছে আমেরিকা। তেলের জাহাজ দখল এবং ট্রাম্পের এই ‘জলদস্যু’সুলভ মন্তব্যের পর পরিস্থিতি যে চরম সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে, তা নিয়ে নিশ্চিত প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। ইরানের সামরিক কমান্ড সাফ জানিয়েছে, তাঁরা এই অপমানের উপযুক্ত জবাব দেবেন।