টাকা বাঁচাতে রিচার্জ করছেন না? ৯০ দিন পেরোলেই চিরতরে হারাবেন প্রিয় নম্বর, TRAI-এর কড়া নির্দেশ

বর্তমান ডিজিটাল যুগে আমাদের জীবন মোবাইল ফোন এবং সিম কার্ডের ওপর নির্ভরশীল। ব্যাঙ্কিং লেনদেন থেকে শুরু করে অফিসের কাজ—সবক্ষেত্রেই ওটিপি (OTP) ভেরিফিকেশন জরুরি। কিন্তু আপনি কি জানেন, রিচার্জ না করলে কতদিন পর আপনার প্রিয় মোবাইল নম্বরটি চিরতরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে? টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (TRAI) এবং টেলিকম সংস্থাগুলি এই বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট এবং কড়া নিয়ম বেঁধে দিয়েছে।

রিচার্জ না করলে কী হয়? আপনার প্রিপেড প্ল্যানের মেয়াদ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই টেলিকম সংস্থাগুলি প্রথম ধাপ হিসেবে আউটগোয়িং কল এবং এসএমএস (SMS) পরিষেবা বন্ধ করে দেয়। অর্থাৎ, আপনি কাউকে ফোন করতে পারবেন না। তবে এই প্রাথমিক পর্যায়ে ইনকামিং পরিষেবা চালু থাকে। যদি এই সময়ের মধ্যেও আপনি রিচার্জ না করেন, তবে ধীরে ধীরে ইনকামিং কল এবং মেসেজ আসাও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ব্যাঙ্কিং ওটিপি বা জরুরি ফোন পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।

কতদিন পর সিম পুরোপুরি বন্ধ হয়? TRAI-এর নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রিপেড সিম কার্ড যদি টানা ৯০ দিন কোনোভাবে ব্যবহার না করা হয় (কল, মেসেজ বা ইন্টারনেট), তবেই সেটি নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

  • ব্যালেন্স থেকে টাকা কাটা: যদি আপনার সিমে মূল ব্যালেন্স থাকে, তবে অনেক সময় কোম্পানি ২০ টাকা কেটে নিয়ে সিমের মেয়াদ আরও ৩০ দিন বাড়িয়ে দেয়।

  • স্থায়ী ডিঅ্যাক্টিভেশন: যদি আপনার সিমে ২০ টাকার কম ব্যালেন্স থাকে এবং ৯০ দিন কোনো রিচার্জ না হয়, তবে টেলিকম সংস্থা সাধারণত ১৫ দিনের একটি ‘গ্রেস পিরিয়ড’ বা অতিরিক্ত সময় দেয়। এর মধ্যেও রিচার্জ না হলে সিমটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সিম বন্ধ হলে কী ক্ষতি? একবার সিম কার্ড স্থায়ীভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলে ওই নম্বরটি পুনরায় ফিরে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। নিয়ম অনুযায়ী, একটি নির্দিষ্ট সময় পর ওই নম্বরটি বাজারে পুনরায় নতুন গ্রাহকদের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়। এর ফলে আপনার পুরনো নম্বরের সাথে যুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বা সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলগুলি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

তাই নম্বরটি সচল রাখতে এবং যেকোনো জরুরি পরিষেবা নিরবচ্ছিন্নভাবে পেতে অন্তত একটি ন্যূনতম রিচার্জ করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। মনে রাখবেন, নেটওয়ার্ক থাকা মানেই সিমটি সুরক্ষিত নয়, নিয়মিত ব্যবহার এবং রিচার্জই সিমের আয়ু নিশ্চিত করে।