ঘুম কাড়ল মোবাইলের তীক্ষ্ণ আওয়াজ! সারা ভারত জুড়ে কেন এই জরুরি অ্যালার্ট? বড় ঘোষণা কেন্দ্রের

শনিবার সকালে হঠাৎই কেঁপে উঠল কোটি কোটি ভারতবাসীর পকেট! সাইলেন্ট মোডে থাকা ফোন থেকেও আচমকা ভেসে এল এক তীক্ষ্ণ সাইরেনের শব্দ। স্ক্রিনে ফুটে উঠল “অত্যন্ত গুরুতর সতর্কতা” বা “Severe Alert”-এর বার্তা। তবে ঘাবড়ানোর কিছু নেই, আপনার ফোন হ্যাক হয়নি। বরং আজ থেকে ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে পথ চলা শুরু করল সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি শক্তিশালী ‘সেল ব্রডকাস্ট’ জরুরি সতর্ক ব্যবস্থার।

কী এই ‘সচেত’? ২০২৬ সালের ২ মে, অর্থাৎ আজ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং যোগাযোগ মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া যৌথভাবে এই আধুনিক প্রযুক্তির উদ্বোধন করেন। এই উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে ‘SACHET’ (সচেত)। এটি একটি সমন্বিত সতর্কতা ব্যবস্থা (Integrated Alert System), যা মূলত প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট দুর্যোগের সময় সাধারণ মানুষকে মুহূর্তের মধ্যে সতর্ক করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।

কেন এই সাইরেন? এতদিন সরকার এসএমএস-এর মাধ্যমে দুর্যোগের খবর দিত। কিন্তু বহু ক্ষেত্রে নেটওয়ার্ক জ্যাম বা ফোন সাইলেন্ট থাকায় মানুষ সেই বার্তা সময়মতো পেতেন না। নতুন এই ‘সেল ব্রডকাস্ট’ প্রযুক্তি সাধারণ এসএমএস-এর চেয়ে অনেক উন্নত। এর বিশেষত্ব হলো:

  • আপনার ফোন যদি সাইলেন্ট বা ডু-নট-ডিস্টার্ব মোডেও থাকে, তবুও এটি তীক্ষ্ণ আওয়াজ করবে।

  • ইন্টারনেট ছাড়াই সরাসরি মোবাইল টাওয়ারের মাধ্যমে এই সিগন্যাল আপনার ফোনে পৌঁছে যাবে।

  • ভূমিকম্প, সুনামি, বজ্রপাত বা এমনকি কোনো রাসায়নিক গ্যাস লিকের মতো পরিস্থিতিতে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে এলাকার সমস্ত মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছে দেবে ‘সচেত’।

কারা তৈরি করল এই প্রযুক্তি? টেলিযোগাযোগ বিভাগের গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অফ টেলিম্যাটিক্স’ (C-DOT) সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে এই ‘সচেত’ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে তৈরি এই ব্যবস্থাটি বর্তমানে ভারতের ৩৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলেই কার্যকর রয়েছে। ভারতের বৈচিত্র্যের কথা মাথায় রেখে ১৯টিরও বেশি ভাষায় এই সতর্কবার্তা পাঠানোর ক্ষমতা রাখে এই সিস্টেম।

আতঙ্কের কারণ নেই সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজকের এই সাইরেন ছিল একটি সফল ট্রায়াল বা মহড়া। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নিশ্চিত করা গেল যে, যেকোনো বড় বিপদের সময় সরকার আপনার ব্যক্তিগত সেটিংস নির্বিশেষে আপনার কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে সক্ষম। আজকের এই পরীক্ষামূলক বার্তায় নাগরিকদের কোনো পদক্ষেপ নিতে বলা হয়নি, বরং দেশের সুরক্ষা কবজ হিসেবে এই প্রযুক্তির সফল আগমনই বার্তা দেওয়া হয়েছে।