রাত ২টো বাজলেও বেরোনো মানা! নন্দীগ্রামের স্মৃতি উসকে অভিষেক দিলেন ‘মাস্টার প্ল্যান’, ৪ মে কি তবে উল্টে যাবে সব খেলা?

৪ মে বাংলার ভাগ্য নির্ধারণ। কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। আর তার ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে দলের সমস্ত কাউন্টিং এজেন্টদের নিয়ে এক নজিরবিহীন ভার্চুয়াল বৈঠক করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জয়ের ব্যাপারে ২০০ শতাংশ আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল নেতৃত্ব সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এবার আসন সংখ্যা ২০০ পার করবেই। তবে শেষ মুহূর্তের ‘কারচুপি’ বা ‘চুরি’ রুখতে এজেন্টদের জন্য একগুচ্ছ কড়া ও বিস্ফোরক গাইডলাইন বেঁধে দিলেন তাঁরা।

খাবারে মেশানো হতে পারে বিষ! এজেন্টদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের পাশাপাশি তাঁদের নিরাপত্তার দিকটিতেও নজর দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “গণনাকেন্দ্রে বাইরে কেউ কিছু দিলে খাবেন না। বাড়ির খাবার সাথে নিয়ে যাবেন। আগের দিন থেকে পান-জর্দা ছোঁবেন না। কেউ কিছু মিশিয়ে দিতে পারে।” মূলত এজেন্টদের শরীর খারাপ করিয়ে তাঁদের টেবিল থেকে সরিয়ে দেওয়ার কোনও ষড়যন্ত্র হতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন নেত্রী।

রাত ২টো বাজলেও টেবিল ছাড়া মানা ২০২১ সালের নন্দীগ্রামের অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়েছেন, যতক্ষণ না নেত্রী নিজে নির্দেশ দিচ্ছেন, ততক্ষণ রাত ২টো বাজলেও কেউ গণনা কেন্দ্র ছেড়ে বেরোবেন না। বিশেষ করে যে সব আসনে জয়ের ব্যবধান ২০০-৩০০ হবে, সেখানে তৎক্ষণাৎ ‘রিকাউন্টিং’-এর দাবি জানাতে হবে।

মেশিন ও ফর্ম ১৭সি-র কড়া পাহারার নির্দেশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রযুক্তিগত খুঁটিনাটি বুঝিয়ে দিয়ে বলেন, “মেশিন আনার পর ফর্ম ১৭সি-র সঙ্গে সিরিয়াল নম্বর মেলাতে হবে। যদি না মেলে, তবে মেশিন খুলতে দেবেন না। ভিভিপ্যাট গণনার দাবি জানাবেন।” তিনি আরও যোগ করেন, মহারাষ্ট্র বা বিহারে যেভাবে ভোট ‘চুরি’ হয়েছে, বাংলায় যাতে তা না হয় তার জন্য প্রতিটি রাউন্ডের হিসেব ডায়েরিতে লিখে রাখতে হবে।

তৃণমূলের ৫ দফা ‘অ্যাকশন প্ল্যান’:

  • ভোর ৫টায় প্রবেশ: গণনাকেন্দ্রে ঠিক ভোর ৫টার মধ্যে পৌঁছে যেতে হবে।

  • এক্সিট পোল উপেক্ষা: তৃণমূলের দাবি, স্টক মার্কেট বাঁচাতে এক্সিট পোলের মিথ্যে ন্যারেটিভ তৈরি করা হচ্ছে।

  • পুলিশ অবজার্ভার নিয়ে সতর্কতা: পুলিশ অবজার্ভারের কোনও অধিকার নেই অযথা ডেকে পাঠানোর। ভয় দেখালে বা অনৈতিক আচরণ করলে পালটা রুখে দাঁড়াতে হবে।

  • কারেন্ট সাপ্লাই ইউনিটে নজর: যেখানে মেইন সুইচ বা কারেন্ট সাপ্লাই ইউনিট আছে, সেই জায়গাগুলো ঘিরে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কর্মীদের।

  • ট্রেনিং মডেল: আগামিকাল ১০ মিনিটের একটি বিশেষ ভিডিও পাঠানো হবে এজেন্টদের প্রশিক্ষণের জন্য।

“বিজেপি শেষ কামড় দেবে ওইদিন,” এই সতর্কবার্তা দিয়ে অভিষেক মনে করিয়ে দেন যে আত্মতুষ্টিতে ভুগলে চলবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা, যারা দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন তাঁদের বড় পুরস্কার দেওয়া হবে। ৪ মে-র চূড়ান্ত লড়াইয়ের আগে ঘাসফুল শিবিরের এই কড়া মেজাজ আদতে বিরোধীদের ওপর যে বড় মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করল, তা বলাই বাহুল্য।