ইভিএম পাহারা দিতে এবার দিনে দু’বার হানা! ৪ মে-র আগে স্ট্রং রুম নিয়ে নবান্নের নজিরবিহীন নির্দেশ

৪ মে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের হাইভোল্টেজ ফলাফল। কিন্তু চূড়ান্ত দিনক্ষণ এগিয়ে আসতেই ইভিএম-এর নিরাপত্তা এবং গণনাকর্মী নিয়োগ নিয়ে তুঙ্গে উঠেছে প্রশাসনিক ও আইনি তৎপরতা। একদিকে যখন স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা নিয়ে নবান্ন কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে, অন্যদিকে তেমনই গণনাকর্মী নিয়োগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে নতুন মোড় এল রাজ্যের রাজনীতিতে।

স্ট্রং রুমে দিনে দু’বার হানা স্ট্রং রুমের সিসিটিভি মাঝেমধ্যেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে—বিরোধীদের এই লাগাতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে এবার নজিরবিহীন কড়া অবস্থান নিল নবান্ন। মুখ্য সচিবের দফতর থেকে প্রতিটি জেলা নির্বাচনী আধিকারিককে (DEO) স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, ৪ মে গণনা শুরু না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন অন্তত দু’বার সশরীরে স্ট্রং রুম পরিদর্শন করতে হবে। শুধু পরিদর্শনই নয়, সিসিটিভি সচল রয়েছে কি না এবং নিরাপত্তার প্রতিটি খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখে রিপোর্ট করতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূলের স্বস্তি ভোটগণনার কাজে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের নিয়োগ করার যে সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন নিয়েছিল, তাকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। শনিবার সেই মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত বড়সড় নির্দেশ দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, গণনা প্রক্রিয়ায় শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী নয়, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় উভয় কর্মীদের মিশিয়ে অর্থাৎ ‘র‍্যান্ডমাইজেশন’-এর মাধ্যমে কাজে লাগাতে হবে। কমিশনের ১৩ এপ্রিলের নিজস্ব সার্কুলার ‘অক্ষরে অক্ষরে’ পালন করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এর ফলে গণনা কক্ষে রাজ্য সরকারি কর্মীদের উপস্থিতিও নিশ্চিত হলো।

কেন এই সতর্কতা? এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা গতবারের তুলনায় কমলেও প্রায় ৩৪ লক্ষ বাড়তি ভোট পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই বিপুল সংখ্যক ভোটের নিরাপত্তা এবং গণনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখাই এখন কমিশনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। সিসিটিভি বিভ্রাট বা গণনাকর্মী নিয়ে কোনও পক্ষ যাতে কারচুপির অভিযোগ তুলতে না পারে, তার জন্যই সুপ্রিম কোর্টের এই হস্তক্ষেপ এবং নবান্নের এই বাড়তি তৎপরতা।