রেজাল্টের পরেই কি রণক্ষেত্র হবে মেদিনীপুর? ১৮ কোম্পানি বাহিনী নামিয়ে বড় বার্তা পুলিশ সুপারের!

বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। আগামী ৪ মে রাজ্যের ভাগ্য নির্ধারণ। তবে গণনার দিন এবং ফলাফল বেরোনোর পরবর্তী সময়ে যাতে কোনওভাবেই অশান্তি বা হিংসার পরিবেশ তৈরি না হয়, তার জন্য কোমর বেঁধে ময়দানে নামল প্রশাসন। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ভোট-পরবর্তী হিংসা রুখতে নতুন করে আরও ১৮ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে।

শনিবার জেলার কাউন্টিং সেন্টার ও স্ট্রংরুমগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণ এবং পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা। ঘাটাল রবীন্দ্র শতবার্ষিকী কলেজ, খড়গপুর কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় এবং মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুলের মতো গুরুত্বপূর্ণ গণনা কেন্দ্রগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

অশান্তি রুখতে পুলিশের ‘টার্গেট লিস্ট’ স্ট্রংরুম পরিদর্শন শেষে পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা সংবাদমাধ্যমকে জানান, “গণনা প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে যেমন ফোর্স রাখা হয়েছে, তেমনই ফলাফল বেরোনোর পর যাতে কোনও রাজনৈতিক সংঘর্ষ না হয়, তার জন্য ১৮ কোম্পানি অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী জেলায় এসেছে। তাদের বিভিন্ন থানায় মোতায়েন করা হচ্ছে।”

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, পুলিশের হাতে ইতিমধ্য়েই একটি তালিকা তৈরি হয়েছে। গত কয়েকদিনের নির্বাচনী পর্বে যারা বিভিন্ন গন্ডগোলের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তাদের নাম ওই তালিকায় রয়েছে। পুলিশ সুপার স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ওই ব্যক্তিদের ওপর বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। কিউআরটি (QRT) টিম জেলার বিভিন্ন প্রান্তে নিয়মিত টহল দেবে।

নাগরিক নিরাপত্তায় কড়া বার্তা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, কোনও দলের কর্মী-সমর্থক যাতে সাধারণ নাগরিক বা বিরোধী শিবিরের ওপর হামলা চালাতে না পারে, তা নিশ্চিত করা হবে। মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখাই এখন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।

উল্লেখ্য, পশ্চিম মেদিনীপুরের ১৫টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভাগ্য এখন ইভিএম-বন্দি। আগামী ৪ মে সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে ভোটগণনা। কেশপুর, ঘাটাল, সবং বা খড়গপুরের মতো স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে এবার বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে, যাতে গত কয়েক বছরের ‘ভোট পরবর্তী হিংসা’-র ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি না ঘটে। ৪ মে-র হাইভোল্টেজ ফলের আগে জেলাজুড়ে এখন টানটান উত্তেজনা।