ফল ঘোষণার আগেই ‘তৃণমূলই আসছে’! হাইকমান্ডের নেতার মন্তব্যে ছিছিক্কার কংগ্রেসে, রাগে ফুঁসছেন অধীর

৪ মে বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল। কিন্তু ব্যালট বাক্স খোলার আগেই রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে মহাবিস্ফোরণ! এআইসিসি নেতা তথা প্রদেশ কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক গুলাম আহমেদ মীরের একটি বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে তপ্ত হয়ে উঠল বিধান ভবনের পরিবেশ। তাঁর দাবি— বাংলায় বিজেপির আসার সম্ভাবনা নেই, বরং ফের নবান্ন দখল করতে চলেছে তৃণমূলই।
মীরের মন্তব্যে কেন এই অস্বস্তি? এবারের নির্বাচনে বাংলায় কোনো জোট না করে ২৯৪টি আসনেই ‘একলা চলো’ নীতিতে লড়াই করেছে কংগ্রেস। স্বয়ং রাহুল গান্ধী সভা করে তৃণমূল ও বিজেপি— উভয় পক্ষকেই কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন। সেই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে দলেরই একজন শীর্ষ নেতার মুখে শাসক দলের জয়ের পূর্বাভাস কর্মীদের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। নিচুতলার কর্মীদের প্রশ্ন, যদি তৃণমূলই জিতবে তবে কেন এই মরণপণ লড়াই?
ফুঁসে উঠলেন অধীর চৌধুরী এই ইস্যুতে আর চুপ করে থাকেননি কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা তথা ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য অধীররঞ্জন চৌধুরী। নাম না করেই গুলাম আহমেদ মীরকে তোপ দেগে তিনি বলেন, “কিছু নেতা এমন ভাব করছেন যেন তৃণমূলের সঙ্গে সমঝোতা করলেই ভালো হতো!” অধীরের অভিযোগ, রাজ্যে যখন জেলায় জেলায় কংগ্রেস কর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছেন, তখন দলেরই নেতার এমন ‘তৃণমূল-ঘেঁষা’ মন্তব্য কার্যত কর্মীদের পিঠে ছুরি মারার সামিল।
হামলার মুখে কর্মীরা, ক্ষোভের আগুনে দল মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতার রাসবিহারী— ভোটের ফল বেরোনোর আগেই একাধিক জায়গায় কংগ্রেস কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। রাসবিহারীর প্রার্থী আশুতোষ চট্টোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনে নালিশ জানিয়েছেন। কর্মীদের দাবি, একদিকে যখন শাসকের মারে রক্ত ঝরছে, তখন দিল্লির নেতারা তৃণমূলকে ক্লিনচিট দিলে কর্মীদের মনোবল তলানিতে গিয়ে ঠেকবে।
রাজনৈতিক মহলের বিশ্লেষণ বিশ্লেষকদের মতে, ফলাফল প্রকাশের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে মীরের এই মন্তব্য প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও রাজ্য নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব পাহাড়প্রমাণ। একদিকে অধীর চৌধুরী যখন তৃণমূলকে উৎখাত করার ডাক দিচ্ছেন, তখন মীরের ভবিষ্যৎবাণী সেই লড়াইকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।