রক্ষণেই কি ভক্ষণ? হরিপালে টিউশন ফেরত ছাত্রীর হাত ধরে টান জওয়ানের! ভোট বাজারে তুলকালাম হুগলিতে

যে বাহিনীর ওপর সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আর ভোটের পবিত্রতা রক্ষার গুরুদায়িত্ব, তাদেরই এক সদস্যের বিরুদ্ধে উঠল শ্লীলতাহানির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। ভোটের ডিউটিতে এসে এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করার অভিযোগে শুক্রবার রাতে উত্তাল হয়ে উঠল হুগলির হরিপাল। অভিযুক্ত জওয়ানকে হাতেনাতে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন স্থানীয়রা।

ঘটনার বিবরণ: প্রাণভয়ে দৌড় ছাত্রীর স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় টিউশন সেরে সাইকেলে চড়ে বাড়ি ফিরছিল ওই ছাত্রী। অভিযোগ, হরিপালের বন্দিপুর বাজার এলাকায় আচমকাই এক কেন্দ্রীয় জওয়ান ছাত্রীর পথ আটকায় এবং তার হাত ধরে টানাটানি শুরু করে। অবস্থা বেগতিক দেখে কিশোরীটি সাইকেল ফেলেই প্রাণভয়ে দৌড়াতে শুরু করে। পাশের একটি আদিবাসী পাড়ার বাড়িতে ঢুকে সে আশ্রয় নেয়। ওই বাড়ির মহিলারাই আতঙ্কিত ছাত্রীকে রক্ষা করেন।

মত্ত অবস্থায় ছিল জওয়ান? ছাত্রীর বাবার অভিযোগ, তাঁর মেয়ে ফোন করে জানায় যে এক সিআরপিএফ জওয়ান তাকে তাড়া করছে। স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত জওয়ান সেই সময় মত্ত অবস্থায় ছিল। ছাত্রীর বর্ণনা অনুযায়ী স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তকে ধরে ফেলেন। পরে হরিপাল থানার পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

থানার সামনে বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক উত্তাপ এই ঘটনা জানাজানি হতেই হরিপাল থানার সামনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। তৃণমূল প্রার্থী করবী মান্নার নেতৃত্বে থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান দলীয় কর্মীরা। করবী মান্না ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “যারা দেশের এবং নির্বাচনের নিরাপত্তা দেবে, তাদের কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এর কঠোরতম শাস্তি চাই।”

পুলিশি পদক্ষেপ হুগলি গ্রামীণ পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত জওয়ানকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার তাকে চন্দননগর আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ।

ভোটের আবহে খোদ কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় নারী সুরক্ষা এবং বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন তৈরি হয়েছে হরিপালে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যেখানে বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, সেখানেই এমন ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জেলাজুড়ে।